কুশল দাশগুপ্ত, আলিপুরদুয়ার / শিলিগুড়ি:
দিল্লি থেকে আলিপুরদুয়ারগামী চলন্ত মহানন্দা এক্সপ্রেসে দুই মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ওপর গুরুতর শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিলিগুড়ি জংশন ছাড়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনা রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৈন্যদশাকে আরও একবার নগ্নভাবে সামনে এনে দিল।
ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ
রেল পুলিশ ও নিগৃহীতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
ফাঁকা কামরার সুযোগ: শিলিগুড়ি জংশন অতিক্রম করার পর সংশ্লিষ্ট কামরাটি প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছিল। এই সুযোগ নিয়েই অভিযুক্ত যুবক ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সঙ্গে প্রথমে অশালীন আচরণ শুরু করে।
-
শারীরিক নির্যাতন ও মারধর: অভিযোগ, মহিলা বাধা দিলে এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর ওপর জোরপূর্বক অত্যাচার চালানো হয়।
-
সহায়তার অভাব: কামরায় পর্যাপ্ত যাত্রী বা নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় নির্যাতিতা চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাহায্য পাননি। ট্রেন আলিপুরদুয়ার জংশনে পৌঁছানোর পর তিনি অবশেষে রেল পুলিশের (GRP/RPF) দ্বারস্থ হন।
আরও পড়ুনঃ পোলবার হোটেলে দেহ ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ অভিযান, ম্যানেজারসহ আটক ৫
অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার কথা জানতে পেরেই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে রেল সুরক্ষা বাহিনী ও জিআরপি:
-
অভিযুক্তের পরিচয়: গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম গৌতম মাহাতো, যিনি আসামের রঙিয়া এলাকার বাসিন্দা।
-
গ্রেপ্তার ও আদালত: আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশন থেকে তাঁকে আটক করার পর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। আলিপুরদুয়ার জিআরপি থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য; ক্ষমতার ঊর্ধ্বে এক সাধারণ মানুষের গল্প
মহিলা নিরাপত্তা ও দূরপাল্লার ট্রেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মহানন্দা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ওপর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ এই প্রথম নয়; এর আগেও একাধিকবার এই ট্রেনে দুষ্কৃতী তাণ্ডব ও অঘটন ঘটেছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রী ও সুশীল সমাজ একাধিক দাবি তুলেছেন:
-
ফাঁকা কামরায় বিশেষ নজরদারি: গন্তব্যের শেষদিকের স্টেশনে কামরা ফাঁকা হয়ে গেলে আরপিএফ (RPF)-এর নিয়মিত টহল ও স্কোয়াড নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
-
জরুরি হেল্পলাইন ও স্কোয়াড: রাতের ট্রেনগুলিতে এবং মহিলা কামরা বা সাধারণ বগিতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন জরুরি।
-
সিসিটিভি ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা: ট্রেনের ভেতরে নিরাপত্তা নজরদারি ক্যামেরা ও জরুরি অ্যালার্ম বোতাম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
রেল পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


