বৃহস্পতিবার সাতসকালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের পাহাড়ি এলাকা লেহ। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫।
আরও পড়ুনঃ রেড অ্যালার্ট; নিম্নচাপ যাবে কলকাতার উপর দিয়ে! অতি ভারী বৃষ্টির অগ্রিম সতর্কতা
ভূমিকম্পের স্থানাঙ্ক ও বিস্তারিত বিবরণ
-
সময়: বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড।
-
ভূগোল ও অবস্থান: ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বা উৎসস্থল ছিল ৩৬.৮৮১° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৪.৪০২° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
-
গভীরতা (Depth): ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের মূল কেন্দ্র।
-
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ: প্রারম্ভিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
আরও পড়ুনঃ সুন্দরবনে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও কড়া নিরাপত্তা
অগভীর ভূমিকম্প এবং সম্ভাব্য বিপদের ঝুঁকি
বিজ্ঞানীদের মতে, ভূগর্ভের কম গভীরতায় (Shallow depth) সৃষ্ট ভূমিকম্প গভীর অঞ্চলের ভূমিকম্পের চেয়ে বহুগুণ বেশি বিপজ্জনক:
-
কম গভীরতার প্রভাব: সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৭০০ কিমি নিচ পর্যন্ত স্থানকে গভীরতার ভিত্তিতে ৩ ভাগে (অগভীর, মধ্যবর্তী ও গভীর) ভাগ করা হয়। অগভীর ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ তরঙ্গ খুব দ্রুত এবং কম শক্তি ক্ষয় করে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়।
-
আশঙ্কা: তরঙ্গ দ্রুত পৌঁছানোর কারণে ভূপৃষ্ঠে তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়, যার ফলে ধস নামা ও ইমারত ভেঙে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
যদিও এই ঘটনায় আপাতত কোনো হতাহতের খবর নেই, তবুও প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পুরো এলাকায় সতর্কবার্তা জারি রেখেছে। পার্বত্য ও ভূ-গঠনগতভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চল হওয়ায় মূল কম্পনের পর ছোট ছোট অনুকম্পন (Aftershocks) হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়, যার ওপর নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।


