স্বাধীনতার আনন্দ যখন ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের মালদা, নদীয়া, বনগাঁ, রানাঘাট ও বালুরঘাটের মতো অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব মানসিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সীমান্তে রেডক্লিফ কমিশনের তৈরি সীমানা নির্ধারণের ভুলের কারণে ভারতের এই বিস্তীর্ণ এলাকাগুলো সাময়িকভাবে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়।
আরও পড়ুনঃ 2026 – 1947 = 79; ২০২৬-এর স্বাধীনতা দিবস ৭৯ নাকি ৮০তম?
তিন দিনের ঐতিহাসিক নাটকীয়তা
-
ভুলের মাশুল ও পাক-পতাকা: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট সকালে যখন সমগ্র দেশ ভারতের তেরঙা উড়াচ্ছিল, তখন মালদা ও নদীয়ার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় ও জনপথে উড়ছিল পাকিস্তানের পতাকা। রাতারাতি নিজের মাতৃভূমিতে ‘পাকিস্তানি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার এই ঘটনা স্থানীয় অধিবাসীদের স্তম্ভিত করে দেয়।
-
তীব্র প্রতিবাদ ও কূটনৈতিক চাপ: মাতৃভূমিকে পাকিস্তানভুক্ত হতে দেখে রাজপথে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। স্যার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং নদীয়া রাজপরিবারের উদ্যোগ ও কূটনৈতিক চাপের মুখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ প্রশাসন।
-
ভুল সংশোধন (১৭-১৮ই আগস্ট): তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন সীমানা নির্দেশক রেডক্লিফ লাইন দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেন। ১৭ই আগস্ট রাতে পেন্সিলের দাগ সংশোধন করে এই অঞ্চলগুলিকে পুনরায় ভারতের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮ই আগস্ট সকালে সরকারিভাবে ভারতভুক্তির চূড়ান্ত বার্তা পৌঁছায় এবং উড়ানো হয় ভারতীয় তেরঙা।
আরও পড়ুনঃ বিপ্লবী থেকে সাধক, কারাকক্ষের অত্যাচার সহ্য করেই জীবনদর্শন বদলেছিলেন ঋষি অরবিন্দ
১৮ই আগস্টের প্রাসঙ্গিকতা
ঐতিহাসিক এই ভুলের পর তিন দিনের টানা আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনাকে স্মরণে রেখে আজও নদীয়া ও মালদার বিভিন্ন প্রান্তে ১৮ই আগস্ট দিনটি বিশেষ উৎসাহে ‘স্বাধীনতা দিবস’ বা ‘ভারতভুক্তি দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হয়।


