Monday, 10 August, 2026
10 August
Homeআন্তর্জাতিক নিউজRussia-India: সামুদ্রিক পথের নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘ স্থলপথের পরিকল্পনা; ভারতের সাথে রেল যোগাযোগের...

Russia-India: সামুদ্রিক পথের নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘ স্থলপথের পরিকল্পনা; ভারতের সাথে রেল যোগাযোগের প্রস্তাব রাশিয়ার

সরাসরি ভারতের সাথে স্থলপথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিল রাশিয়া।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

মস্কো / নয়াদিল্লি:

বাণিজ্যিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এবার সরাসরি ভারতের সাথে স্থলপথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিল রাশিয়া। মস্কোর লক্ষ্য, বিকল্প রুটের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেলে পণ্য পরিবহনের পথ উন্মুক্ত করা।

আরও পড়ুনঃ ভয় ইন ভরসা আউট! শিখা গুহ ভবনে ‘আদাব’ নাটকে আজানের সুর নিয়ে বিতর্ক; নাট্যকর্মী ও দর্শকের প্রতিবাদ

প্রস্তাবনার মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন রুশ সংবাদ সংস্থা TASS-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন:

  • সামুদ্রিক ঝুঁকির চিত্র: হরমুজ প্রণালী ও বসফরাস প্রণালীর মতো ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

  • জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্ব: বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) ২০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই পথ কোনো কারণে অবরুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে স্থলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে মস্কো।

প্রস্তাবিত সম্ভাব্য রুট ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি

প্রকল্পটি বর্তমানে একেবারেই প্রাথমিক ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের স্তরে রয়েছে। কোনো চূড়ান্ত রুট নির্ধারিত না হলেও সম্ভাব্য রূপরেখাটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • পথের বিস্তার: রাশিয়া থেকে শুরু হয়ে এই প্রস্তাবিত রেলপথ তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের ওপর দিয়ে প্রসারিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতের সাথে যুক্ত হতে পারে।

  • যাত্রীবাহী পরিষেবা নয়: আপাতত এটি কোনো সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে না। ট্রেনের নাম, ভাড়ার তালিকা বা চালুর নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি; প্রধান লক্ষ্য মূলত পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য।

আরও পড়ুনঃ ‘দেশভাগ স্মরণ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নবান্নের

ভারতের জন্য সম্ভাবনা ও কৌশলগত গুরুত্ব

যদি এই রেল যোগাযোগ বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা ভারতের জন্য অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত দিক থেকে বড় পরিবর্তনের রূপকার হতে পারে:

  1. পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য: সরাসরি স্থলপথের সুবিধা মেলায় রাশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সাথে ভারতের বাণিজ্যিক লেনদেনের সময় ও খরচ অনেকটাই কমে আসবে।

  2. ভবিষ্যৎ পর্যটন: প্রাথমিক পর্যায়ে পণ্যবাহী ট্রেনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই করিডোর সফল হলে পর্যটন ও সাধারণ যাতায়াতের রাস্তাও খুলতে পারে।

বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

রাজনৈতিক ও পরিকাঠামোগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বেশ জটিল:

  • ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো অস্থির ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর দিয়ে দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ করা বড়সড় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

  • বহুপাক্ষিক সমন্বয়: একাধিক দেশের সাথে অর্থনৈতিক সমন্বয়, বিশাল পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ।

তা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প পথ খুঁজতে ভারতের দিকে স্থলপথে পৌঁছানোর জন্য রাশিয়ার এই ভাবনাকে একটি দূরদর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেেপ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন