ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে (১৫ আগস্ট, ২০২৬) ঐতিহাসিক লালকেল্লায় সূচনা হলো এক নতুন অধ্যায়ের। এই প্রথমবার স্বাধীনতা দিবসের মূল জাতীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর পাশাপাশি দেশের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে পূর্ণাঙ্গভাবে বাজানো এবং পরিবেশন করা হলো।
আরও পড়ুনঃ সমুদ্রে তোলপাড়! ভয়াবহ ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়ায়
১. ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর ও অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের স্বাধীনতা দিবসের পুরো আয়োজনেই গানটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে:
-
তোপধ্বনি ও সুর পরিবেশনা: প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরপরই ১৭২১ ফিল্ড ব্যাটারির দেশীয় ১০৫ মিমি ‘লাইট ফিল্ড গান’-এর মাধ্যমে ২১ বার আনুষ্ঠানিক তোপধ্বনি দেওয়া হয়। এর পরেই ভারতীয় সেনার ব্যান্ড ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর পরিবেশন করে।
-
বায়ুসেনার পুষ্পবৃষ্টি: পতাকা উত্তোলনের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি Mi-17 হেলিকপ্টার অনুষ্ঠানস্থলে পুষ্পবৃষ্টি করে। একটি হেলিকপ্টারে জাতীয় পতাকা এবং অপরটিতে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা বিশেষ পতাকা শোভা পায়।
-
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম লালকেল্লার মূল মঞ্চে ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাজানো হলো।
আরও পড়ুনঃ 2026 – 1947 = 79; ২০২৬-এর স্বাধীনতা দিবস ৭৯ নাকি ৮০তম?
২. আইনি সুরক্ষা ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমেও জাতীয় গানটিকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে:
-
‘Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Act, 2026’: সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই সংশোধনী বিলে সম্মতি দেওয়ায় ‘বন্দে মাতরম’ এখন থেকে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা লাভ করেছে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, জাতীয় গানের পরিবেশনায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করলে বা অপমান করলে কারাদণ্ড ও জরিমানা বা উভয় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
-
রাষ্ট্রপতির বার্তা: ১৪ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বদেশি আন্দোলন ও ভারতের সমগ্র স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’ সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগাতে মূখ্য ভূমিকা নিয়েছিল।
জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীতের পরপর ঐতিহাসিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের এই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ভারতের ইতিহাসে একটি চিরস্মরণীয় নজির হয়ে রইল।


