ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে শনিবার দিল্লির লালকেল্লায় আয়োজিত ঐতিহাসিক জাতীয় অনুষ্ঠানে টানা দ্বিতীয় বছর অনুপস্থিত থাকলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকলেও কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ লালকেল্লায় ঐতিহাসিক মুহূর্ত! প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’, তারপর জাতীয় সঙ্গীত
১. অনুপস্থিতির পটভূমি ও ২০২৪ সালের আসন বিতর্ক
যদিও এই প্রতিবেদনে তাঁদের অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিরোধীদের মতে এর নেপথ্যে রয়েছে আগের বছরের এক বিতর্কিত ঘটনা:
-
২০২৪ সালের ঘটনা: ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধীকে পিছনের দিকের দ্বিতীয় সারিতে বসানো হয়েছিল।
-
প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ: প্রোটোকল অনুযায়ী, ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত লোকসভার বিরোধী দলনেতার আসন থাকার কথা ছিল প্রথম সারিতে। কংগ্রেস দাবি করেছিল, এই আসন বিন্যাস শুধু রাহুল গান্ধীর নয়, বরং দেশের সমগ্র বিরোধী দল ও তাঁদের সমর্থকদের প্রতিও চরম অসম্মান।
-
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ব্যাখ্যা: অনুষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, অলিম্পিক পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সম্মানে বিশেষ আসন ব্যবস্থার আয়োজন করার কারণেই সাময়িকভাবে কিছু পরিবর্তন এনে রাহুল গান্ধীকে ওই আসনে বসানো হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম; বদলের বাংলায় জাতীয় পতাকা তুললেন শুভেন্দু অধিকারী
২. রাজনৈতিক তাৎপর্য
-
সরকার-বিরোধী ব্যবধান: জাতীয় স্তরের এই বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে টানা দ্বিতীয় বছর প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দূরত্বের ছবিটাই স্পষ্ট করে তুলছে।
-
তীব্র চর্চা: লালকেল্লার এই ঐতিহাসিক মঞ্চে সাধারণত দলমত নির্বিশেষে সকল শিবিরের উপস্থিতি ও ঐক্য প্রদর্শনের ঐতিহ্য রয়েছে। ফলে খাড়গে ও রাহুলের এই সিদ্ধান্ত স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের মধ্যেই এক নতুন রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।


