বিশেষ প্রতিনিধি:
তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। ঘটনার পর হোটেলের মালিক প্রবীর পাল এবং তাঁর ছেলে কল্যাণ পাল—উভয়কেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি ও বৈধ অনুমোদন না থাকায় আজ থেকেই তারাপীঠের ১৫টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ নামল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর, জোর তল্লাশি তারাপীঠের হোটেল লাগোয়া পুকুরে
বন্ধ করে দেওয়া ১৫টি হোটেলের তালিকা
রামপুরহাটের এসডিঅ-র (SDO) নির্দেশ অনুযায়ী, বারংবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও অগ্নিনির্বাপণ বিধি না মানায় নিম্নোক্ত হোটেলগুলি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
-
আদর্শ হোটেল
-
নকুলচন্দ্র লজ
-
শৈলেন ভবন
-
গীতশ্রী গেস্ট হাউস
-
বীরভূম লজ
-
হরেকৃষ্ণ ভবন
-
গিরিধারী ভবন
-
হোটেল দেব
-
তাপ্তি লজ
-
ভোলানাথ ভবন
-
আনন্দ ভবন
-
স্বস্তিক নিবাস
-
সন্দীপ লজ
-
কেশরী লজ
-
দত্ত ভবন
আরও পড়ুনঃ অডিট ও সুরক্ষা গাফিলতি ঘিরে প্রশ্ন; জতুগৃহ তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে দমকলের কার্যপদ্ধতি
কৌশিকী অমাবস্যার আগে জেলা শাসকের কড়া পদক্ষেপ
১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে তারাপীঠে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটতে চলেছে। তার আগেই সামগ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বীরভূমের জেলা শাসক ধবল জৈন একাধিক কড়া নির্দেশনা জারি করেছেন:
-
বিশেষ সেফটি অডিট: তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোমস্টেতে বিদ্যুতের সংযোগ (Short-circuit এড়াতে) এবং স্থায়ী অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
উচ্চপর্যায়ের কমিটি: এসডিও (SDO), এসডিপিও (SDPO), বিদ্যুৎ পর্ষদ (WBSEDCL), ফায়ার ব্রিগেড, পূর্ত দপ্তর (PWD Electrical & Civil) এবং টিআরডিএ (TRDA)-র প্রতিনিধিদের নিয়ে এক যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হলেও, বেআইনি পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার গাফিলতির বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন।


