Monday, 24 August, 2026
24 August
HomeকলকাতাKolkata: আজ কলকাতার জন্মদিন; সত্যিই জন্মদিন আছে কলকাতার!

Kolkata: আজ কলকাতার জন্মদিন; সত্যিই জন্মদিন আছে কলকাতার!

কোনো বহিরাগত শক্তির হাত ধরে নয়, বরং হাজার বছরের সামাজিক পটপরিবর্তন ও দেশীয় কৃষ্টির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এই শহর।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আজ ২৪ আগস্ট। প্রতি বছর এই দিনটি এলেই কলকাতা ও তার আশেপাশের বঙ্গজীবনে শহর কলকাতার ‘জন্মদিন’ ঘিরে নানা আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট জব চার্নক সুতানুটিতে নোঙর ফেলেছিলেন। সেই ঘটনাকে ভিত্তি করেই দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, ২৪ আগস্টই বুঝি কলকাতার জন্মদিন এবং জব চার্নকই এই শহরের প্রতিষ্ঠাতা। তবে ইতিহাস ও আইনি বাস্তবতা এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।

আরও পড়ুনঃ কলকাতার স্কুলে ফের সাপের ছোবল; মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র হাসপাতালে ভর্তি

হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায় (২০০৩)

২০০৩ সালের ১৬ মার্চ কলকাতা হাইকোর্ট এক জনস্বার্থ মামলার ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়:

  • কলকাতা অনাদিকালের: কলকাতার নির্দিষ্ট কোনো জন্ম তারিখ নেই।

  • কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা নেই: জব চার্নককে কলকাতার ‘প্রতিষ্ঠাতা’ বা ‘জনক’ হিসেবে মান্যতা দেওয়া যায় না।

  • ভ্রান্ত ধারণা নিরসন: ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট দিনটিকে কলকাতার জন্মদিন হিসেবে দাবি করার কোনো ঐতিহাসিক সততা বা বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই।

জব চার্নক ও ১৬৯০-এর আগের কলকাতা

ইতিহাস গবেষক ও সাহিত্যিক প্রমানপত্রের ভিত্তিতে দেখা যায়, জব চার্নক ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্টের আগেও দু’বার সুতানুটিতে এসেছিলেন (১৬৮৬ সালের ডিসেম্বর ও ১৬৮৭ সালের নভেম্বর)। ১৬৮৬ সালে হুগলির যুদ্ধে নবাবের জারি করা মৃত্যু পরোয়ানা থেকে বাঁচতে তিনি সুতানুটিতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ১৬৯০ সালে তৃতীয়বার এসে তিনি এখানে অবস্থান করেন।

যে অঞ্চলে চার্নক আস্তানা গড়েছিলেন তা ছিল ‘সুতানুটি’, গোটা ‘কলিকাতা’ নয়। এছাড়া তৎকালীন সময়ে তিনি গুপ্তরোগ ও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে সুতানুটিতে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন। সুতরাং একজন বিদেশী বণিকের সাময়িক আগমন একটি সুপ্রাচীন জনপদের প্রতিষ্ঠা দিবস হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  তরুণ প্রতিভাদের জন্য বড় সুযোগ; নন্দনে শুরু হচ্ছে ‘বেঙ্গল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’

প্রাচীন নথিতে ‘কলিকাতা’ ও সাবর্ণ চৌধুরীদের ভূমিকা

কোনো বহিরাগত শক্তির হাত ধরে নয়, বরং হাজার বছরের সামাজিক পটপরিবর্তন ও দেশীয় কৃষ্টির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে এই শহর। জব চার্নকের আসার বহু শতক আগেই একাধিক প্রাচীন গ্রন্থ ও নথিতে ‘কলিকাতা’ ও তার আশেপাশের অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়:

  • আইন-ই-আকবরি: সুঘটিত রাজস্ব আদায়ের খতিয়ানে ‘কলিকাতা’ পরগনার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

  • মনসামঙ্গল (১৪৯৫): বিপ্রদাস পিপলাইয়ের লেখা ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে কলকাতার উল্লেখ রয়েছে।

  • চণ্ডীমঙ্গল (ষোড়শ শতাব্দী): কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ কলিকাতার নাম পাওয়া যায়।

  • অন্যান্য উল্লেখ: ১৫১০ সালে গুরু নানকের কালীক্ষেত্র দর্শন ও অবস্থান, ওলন্দাজ বণিক ফান ডেন ব্রুক-এর মানচিত্র এবং ১৬৪৫-৫২ সালের মধ্যে রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যেও কলকাতার অস্তিত্ব রয়েছে।

তাছাড়া ১৬০৮ সাল থেকেই সাবর্ণ রায় চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরী এই অঞ্চলের জমিদারি পান। তাঁর হাত ধরেই সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলিকাতায় আধুনিক রাস্তাঘাট, দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ এবং বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিকাঠামো গঠনের কাজ শুরু হয়।

কলকাতা কোনো একদিনে তৈরি হওয়া কৃত্রিম শহর নয়। হাজার বছরের আবহমান ঐতিহ্য ও সামাজিক বিবর্তনের ফসলই আজকের তিলোত্তমা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন