বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টারে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের খরচ সামলাতে ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট ওরাকল (Oracle)। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘বিজনেস ইনসাইডার’ ও ‘এনডিটিভি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক শুরুর ঠিক মুখে, অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার মধ্যেই কর্মীদের কাছে এই সম্পর্কিত ছাঁটাই মেল পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর যেন জীবন্ত দৃশ্য; হিরোশিমা মনে করাল নেপাল
ছাঁটাইয়ের কারণ ও আর্থিক প্রেক্ষাপট
-
এআই খাতে বিপুল খরচ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজার ধরতে গিয়ে ওরাকল শুধু গত অর্থবর্ষেই (FY26) ডেটা সেন্টার ও পরিকাঠামো গঠনে প্রায় ৫৫.৭ বিলিয়ন ডলার মূলধনী ব্যয় করেছে।
-
কর্মীবাহিনী পুনর্গঠন: এআই কোড জেনারেশন ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কম কর্মী দিয়ে বেশি কাজ হাসিল করার নীতি গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।
-
বিভাগীয় কোপ: ওপরতলা থেকে ইতিমধ্যেই ম্যানেজারদের কর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু বিভাগে ছাঁটাইয়ের পরিমাণ দুই অঙ্কের শতাংশে (Double-digit percentage) পৌঁছাতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
ওরাকলের সাম্প্রতিক ছাঁটাই ও পরিসংখ্যানে প্রভাব
| সময়কাল / বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ১ বছরের পরিবর্তন | ২০২৫ সালের মে মাসে ওরাকলের কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ১,৬২,০০০। ২০২৬ সালের মে মাসের শেষে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১,৪১,০০০-এ। |
| ইতিমধ্যে ছাঁটাই | গত এক বছরেই সংস্থাটি প্রায় ২১,০০০ কর্মী (মোট কর্মীবাহিনীর ১৩%) ছাঁটাই করেছে। |
| মার্চের ছাঁটাই | চলতি বছরের ৩১ মার্চ ভোর ৬টায় ইমেলের মাধ্যমে ১০,০০০-এর বেশি কর্মীকে একযোগে ছাঁটাইয়ের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। |
| ভারতের ওপর প্রভাব | ভারতে ওরাকলের বড় আকারের ডেভেলপমেন্ট ও টেক টিম থাকায়, সম্ভাব্য এই নতুন ছাঁটাইয়ের কোপ ভারতীয় প্রযুক্তিবিদদের ওপরেও মারাত্মকভাবে পড়তে পারে। |
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ‘ভালো’ নেতা খুঁজে পাওয়া নিয়ে BJP-কে কড়া সতর্কবার্তা RSS-র
অন্যান্য টেক জায়ান্টের চিত্র
শুধু ওরাকলই নয়; এআই প্রযুক্তির ওপর জোর দিতে গিয়ে এবং পরিচালনাগত খরচ কমাতে মেটা (Meta), অ্যামাজন (Amazon), মাইক্রোসফট (Microsoft) এবং গুগল ক্লাউড (Google Cloud)-এর মতো আন্তর্জাতিক শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলিও চলতি বছরে ধাপে ধাপে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ওরাকলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করা না হলেও, কর্মীদের মধ্যে বর্তমানে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


