বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
প্রেম, ঘনিষ্ঠতা এবং সুস্বাস্থ্য—এই তিনের গভীর মেলবন্ধন নিয়ে বহু প্রাচীন কাল থেকেই চর্চা চলছে। প্রাচীন ‘কামসূত্র’ থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান—সবক্ষেত্রেই নিয়মিত চুম্বনকে কেবল ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় “দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে আয়ু ৭ বছর বাড়ে” শীর্ষক একটি বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়ালেও, বিজ্ঞানের আসল ব্যাখ্যার সঙ্গে এর বেশ কিছু অমিল ও রোমাঞ্চকর তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ কন্ডোমে ফুটো! গুণমান পরীক্ষায় ডাহা ফেল অন্তত ৩ লক্ষ; সতর্কতা জারি
জার্মান গবেষণা ও ছড়ানো গুজবের সত্যতা
গত শতকের আশির দশকে জার্মানির বিশিষ্ট মনোবিদ আর্থার জাবো (Arthur Sazbo) একটি দীর্ঘ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যা নিয়ে কালক্রমে নানাবিধ অতিরঞ্জন তৈরি হয়েছে:
-
আসল গবেষণা: ড. জাবোর গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, যে সমস্ত পুরুষ প্রতিদিন সকালে কাজে বেরোনোর আগে স্ত্রীকে বিদায়ী চুম্বন করেন, তাঁরা স্বাভাবিকের তুলনায় গড়ে ৫ বছর বেশি বেঁচে থাকেন এবং তাঁদের কর্মক্ষেত্রে সফলতার হারও বেশি হয়।
-
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরঞ্জন: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ‘বিদায়ী চুম্বন’ সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপ নিয়েছে ‘২২ মিনিটের চুম্বনে’ এবং ৫ বছরের আয়ু বৃদ্ধির তথ্যটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ‘৭ বছরে’। গবেষকদের মতে, বিষয়টি বিজ্ঞানের ছাঁচে ফেলে স্টপওয়াচ দিয়ে মাপা সম্ভব নয়; আসল ভিত্তি হলো মনস্তাত্ত্বিক আনন্দ ও সম্পর্কের গভীরতা।
আরও পড়ুনঃ Oh My Love; কার্শিয়াংয়ের দুধিয়ার লংভিউ চা-বাগানে সঙ্গিনীর অধিকার নিয়ে দুই দাঁতাল তুমুল সংঘাত, আতঙ্কে বাসিন্দারা
চুম্বনের বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক উপকারিতা
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রূপক গবেষণায় কিসিং বা স্পর্শের যে সমস্ত শারীরিক সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তার রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
| স্বাস্থ্যগত দিক | কার্যকারণ ও প্রভাব |
| হরমোন নি নিঃসরণ ও স্ট্রেস মুক্তি | চুম্বনের ফলে শরীরে অক্সিটোসিন, ডোপামিন ও সেবোটোনিনের মতো ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ (Stress) ও অবসাদ এক ধাক্কায় কমিয়ে দেয়। |
| রক্তচাপ ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ | ঘনিষ্ঠতার ফলে রক্তনালীগুলি প্রসারিত হয়, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মাথায় বা শরীরে থাকা পুরনো ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। |
| দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য | চুম্বনের সময় লালারসের (Saliva) নিঃসরণ বাড়ে, যা মুখে আটকে থাকা খাদ্যাকণা পরিষ্কার করতে ও ক্যাভিটি (Cavity) দূর করতে সাহায্য করে। |
| রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) | দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকা দম্পতির লালারসের আদান-প্রদানের ফলে শরীরে নতুন মাইক্রো-অর্গানিজমের (অণুজীব) পরিচয় ঘটে, যা প্রাকৃতিকভাবে ইমিউন সিস্টেমকে ‘ক্রস-ট্রেণ্ড’ বা শক্তিশালী করে তোলে। |
সম্পর্কের বন্ধনই দীর্ঘায়ুর আসল চাবিকাঠি
গবেষকদের বক্তব্য, সময় মেপে চুম্বন করার চেয়ে বড় কথা হলো ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে পারস পারস্পরিক সুস্থ বন্ধন বজায় রাখা। ছোঁয়াচে কিছু অসুখের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘদিনের সঙ্গীর ক্ষেত্রে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কম। বিখ্যাত মিউজিক ব্যান্ড ‘ঈগলস’-এর জনপ্রিয় গানের লাইনের মতো—“When we are hungry, love will keep us alive”—ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারা এবং ভালোবাসার মানুষের পাশে থাকাটাই মানুষের শরীরে বেঁচে থাকার বাড়তি শক্তি জোগায়।


