বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
শিক্ষক দিবসের দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উপর স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়াবহ কু-প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ছাত্রজীবনের বক্তৃতা ও ডিবেট প্রতিযোগিতার দিনগুলির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, শিশুদের মানসিক ও শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজনে ভোট কমার ঝুঁকি নিয়েও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনার মতো অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে রাজ্য সরকার।
আরও পরুনঃ ঐতিহাসিক সূচনা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে! ক্যাম্পাসে প্রথমবার উদযাপিত হতে চলেছে দেবী দুর্গার আরাধনা
‘রাত ২টো পর্যন্ত স্ক্রিনে নজর’: ক্ষোভ ও কঠোর বার্তার মূল দিক
শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে তরুণ প্রজন্মের মোবাইল আসক্তি নিয়ে যে প্রধান বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে:
-
ভয়াবহ মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি: শিশুরা গভীর রাত পর্যন্ত বাবা-মায়ের অলক্ষ্যে স্মার্টফোনে রিলস ও গেমসে ডুবে থাকছে, যা তাদের স্বাভাবিক ঘুম ও পড়াশোনার মনোযোগ ধ্বংস করছে।
-
গুজরাট মডেলের উল্লেখ: গুজরাটের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার আসল উদ্দেশ্য ধরে রাখতে গেলে এই ধরণের কঠোর সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কার আবশ্যক।
-
রাজনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই সমস্ত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কঠিন এবং এতে আমার ভোট কমে যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার অস্তিত্ব রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
আরও পড়ুনঃ টিকিটের দাম ৫ হাজার টাকা! ফরাক্কায় ধসের জেরে থমকে রেল; শিলিগুড়িগামী বাসের টিকিটের জন্য ধর্মতলায় হাহাকার
গুজরাটের বর্তমান নীতি ও বাস্তবতা
স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রণে গুজরাট সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা এবং বর্তমান পরিস্থিতি:
| ক্ষেত্র | বর্তমান নিয়ম ও গৃহীত ব্যবস্থা |
| স্কুল পড়ুয়া (১ম-১২শ শ্রেণি) | স্কুলে স্মার্টফোন নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনলাইন ক্লাসের অভ্যাসের পর অভিভাবকরা বাড়িতে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশিকা (Advisory) জারির দাবি জানাচ্ছেন। |
| কলেজ ও শিক্ষকবৃন্দ | কলেজ শিক্ষার্থীরা মোবাইল সঙ্গে রাখতে পারলেও ক্লাস চলাকালীন তা ব্যবহার নিষিদ্ধ। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও ক্লাস নেওয়ার সময় মোবাইল ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। |
| বিশেষ সমীক্ষা | চিলড্রেনস রিসার্চ ইউনিভার্সিটি শিশুদের মোবাইল আসক্তির শিক্ষাগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে সরকারের কাছে বিস্তারিত সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দিয়েছে। |
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও বিশেষজ্ঞ অভিমত
কোভিড-১৯ মহামারীর সময় অনলাইন শিক্ষার ওপর নির্ভরতা বাড়ার পর থেকেই প্রি-প্রাইমারি থেকে অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়াদের মধ্যেও ডিভাইসের আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিয়েছেন যে, ছোটদের ‘স্ক্রিন টাইম’ কমাতে তাদের ভার্চুয়াল জগতের বাইরে এনে শারীরিক কসরত, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বেশি করে যুক্ত করাই মোবাইল আসক্তি থেকে শৈশবকে বাঁচানোর একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী পথ।


