বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
সপ্তাহের শুরুতেই শহরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর বড়সড় অভিযান। রাজ্যসভার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ নাদিমুল হকের উর্দু সংবাদপত্র ‘আখবার-ই-মশরিক’-এর দফতরে হানা দিলেন ইডি আধিকারিকরা। পার্ক সার্কাস এলাকায় অবস্থিত এই সংবাদপত্রের অফিসে সোমবার সকাল সকাল পৌঁছায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকারী দল। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুরো চত্বর কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বড় মাস্টারপ্ল্যান; চিকেনস নেক হবে ডাইনোসরস নেক!
অভিযান ও ইডি-র তৎপরতা
তদন্তের স্বার্থে সংবাদপত্রের অফিসে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা:
-
অফিসের মূল দরজায় তালা: অফিসে প্রবেশের পর ইডি আধিকারিকরা মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন, যাতে তল্লাশি চলাকালীন ভেতরের কোনো নথি বাইরে না যেতে পারে এবং বাইরের কেউ প্রবেশ করতে না পারেন।
-
সাংসদের ভূমিকা: পার্ক সার্কাসের এই নামী উর্দু সংবাদপত্রটির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন সাংসদ নাদিমুল হক নিজে। ফলে তাঁর সংবাদপত্রের অফিসে এই অভিযান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ জারি ৩ নম্বর সতর্কতা; ইন্দোনেশিয়ায় দীর্ঘ আট বছর পর ফের সক্রিয় ‘আনাক ক্রাকাতোয়া’
অভিযানের নেপথ্য কারণ ও সার্বিক চিত্র
প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, বেআইনি অর্থ লেনদেন ও আর্থিক কারচুপির সূত্র ধরেই এই কেন্দ্রীয় অভিযান:
| বিষয় | বিবরণ ও বিস্তার |
| তদন্তের মূল ভিত্তি | সংবাদপত্রের অর্থনৈতিক লেনদেনে অসঙ্গতি এবং বেআইনি ফান্ডের (Money Laundering) আনাগোনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নথিপত্র পরীক্ষা করছেন আধিকারিকরা। |
| সংবাদপত্রের পরিধি | ‘আখবার-ই-মশরিক’ কেবল কলকাতাতেই সীমিত নয়; দিল্লি, রাঁচী, আসানসোল, শিলিগুড়ি, ভোপাল, লখনউ এবং শ্রীনগর থেকেও এই সংবাদপত্র নিয়মিত প্রকাশিত হয়। |
| সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা | ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সংস্থার পরিচালন সংক্রান্ত বিষয়ে সাংসদ নাদিমুল হককেও মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা। |
অফিসের বিভিন্ন আর্থিক নথি, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক ও ব্যালেন্স শিট খতিয়ে দেখার কাজ চালাচ্ছে ইডি। তল্লাশি অভিযান শেষে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


