বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা পৌঁছানোর পর এবার সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বকেয়া নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ ভাতা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এবার থেকে যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকার পরিবর্তে বর্ধিত হারে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন।
আরও পড়ুনঃ বৃষ্টি বলয় “ইন্দ্র”-এর প্রভাব! কলকাতা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে মুহুর্মুহু প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা
ভাতার নতুন হার ও প্রশাসনিক লক্ষ্য
আজ নবান্নের সভাঘর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ধিত ভাতা প্রদান কর্মসূচির সূচনা হতে পারে:
-
ভাতা বৃদ্ধি: পূর্বে প্রাপ্ত ১,০০০ টাকার পরিবর্তে এখন থেকে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
-
টাকা পৌঁছানোর সময়সীমা: ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে নবান্ন।
-
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরবর্তীতে নতুন অর্থবর্ষ থেকে এই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার প্রস্তাবনাও রাজ্য সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বড় কিছু করার ভাবনায় ড্রাগন? অক্টোবর থেকে জনতাকে তৈরি থাকতে বলছে চিন! তাইওয়ান নাকি লাদাখ-অরুণাচল?
উপভোক্তাদের সংখ্যা ও সরকারি ফান্ডের সমীকরণ
রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক এই বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পেতে চলেছেন। এই বিপুল খরচের বণ্টন ব্যবস্থাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
| উপভোক্তার শ্রেণি ও সংখ্যা | ফান্ডিং ও খরচের উৎস |
| জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্প (২০ লক্ষ) | কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে চালিত। ৬০–৭৯ বছর বয়সীদের জন্য কেন্দ্র দেয় ২০০ টাকা এবং ৮০ বছরের ঊর্ধ্বদের জন্য দেয় ৫০০ টাকা। বাকি সমস্ত টাকা রাজ্য নিজের কোষাগার থেকে মেটায়। |
| রাজ্য সমাজকল্যাণ দফতর (৪০ লক্ষ) | এই ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্প ও খরচে বার্ধক্য ভাতা পেয়ে থাকেন। |
বার্ধক্য ভাতার পাশাপাশি বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতার টাকাও একসাথে প্রবেশ করতে শুরু করায় রাজ্যের প্রবীণ ও দুস্থ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে।


