বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ:
তাইওয়ান প্রণালী কিংবা ভারত-চীন সীমান্ত (LAC)—যে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপে হাঁটল বেজিং। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ১ অক্টোবর থেকে বলবৎ করতে চলেছেন সংশোধিত ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা সংহতি আইন’ (National Defense Mobilization Law)। নতুন এই আইনের ফলে বেসামরিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম মেধা (AI), শিল্প সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবকিছুকেই সরাসরি সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার বা অধিগ্রহণ করতে পারবে বেজিং। চিনের এই অভূতপূর্ব আইনি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ভারত ও আমেরিকার সামরিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল চুরমার, বামেরা ফেসবুকে; পৌরভোটের আগেই বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক? ‘অলআউট’ অভিযানে রাজ্য বিজেপি
সংশোধিত আইনের মূল দিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা
গত ২৮ আগস্ট চিনা পার্লামেন্ট ‘ন্যাশনাল পিপল্স কংগ্রেস’ (NPC)-এ আইনটির সংশোধনী অনুমোদন পায়। ৭২ থেকে ৮২ নম্বর ধারার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট শি-র হাতে অপরিসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে:
-
প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: ১ অক্টোবর থেকে কৃত্রিম মেধা (AI), ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, ড্রোন প্রযুক্তি, টেলিকমিউনিকেশন এবং দেশের সমস্ত ডিজিটাল ও মূলধারার গণমাধ্যম সরাসরি রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রয়োজনে পরিচালিত হবে।
-
বেসামরিক সম্পদ ও নাগরিক অধিগ্রহণ: ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি পুরুষ এবং ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি নারীদের যে কোনো মুহূর্তে সামরিক বা বিপর্যয় মোকাবিলার কাজের জন্য তলব করা যাবে। এ ছাড়া সীমিত ক্ষতিপূরণে যেকোনো বেসরকারি ভবন, যানবাহন ও শিল্প কারখানা অধিগ্রহণ করতে পারবে লালফৌজ।
-
শিল্প সংস্থায় কড়া বিধিনিষেধ: বেজিং চাইলে যেকোনো বেসরকারি সংস্থাকে মুহূর্তের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কাজে নিয়োজিত হতে বাধ্য করতে পারবে।
আরও পড়ুনঃ মাসাজের নামে সমকামী দেহব্যবসা; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অস্ত্র করে দমদম, যাদবপুর ও কলকাতা সহ রাজ্যে সক্রিয় চক্র
কোন ফ্রন্টে চোখ ড্রাগনের? তাইওয়ান নাকি লাদাখ-অরুণাচল?
রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষের পাঠ নিয়ে বেজিং বুঝেছে যে আধুনিক যুদ্ধ কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; সাইবার হামলা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সামলাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক ও বেসামরিক কাঠামোর মধ্যকার ফারাক পুরোপুরি মুছে ফেলে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই নতুন আইনের মূল উদ্দেশ্য। আর তাই ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নির্দেশিকাকে চীনের ‘যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবেই দেখছে বিশ্বকূটনীতি।


