বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
আসন্ন উৎসবের মরশুমে দেশে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে চিনিকলগুলিকে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত মাসে দেশে চিনির দাম রেকর্ড ছুঁয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ১০ লক্ষ মেট্রিক টন শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির ছাড়পত্র দেয়। পরবর্তীতে দাম কিছুটা কমলেও তা দু’মাস আগের তুলনায় এখনও প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুনঃ দেবীর মুখ কালো, শরীর তামাটে! ক্যানিংয়ের ভট্টাচার্যবাড়ির দুর্গাপুজো
চিনির সংকট ও বাজার পরিস্থিতি
খাদ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অশ্বিনী শ্রীবাস্তবের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ কেবল চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং উৎসবের মুখে বেশি লাভের আশায় মজুতদারির প্রবণতা:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বর্তমান স্থিতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ |
| মূল্যবৃদ্ধির কারণ | উৎসবের মরশুমে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কিছু ক্ষেত্রে চিনি আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল। |
| আমদানির সিদ্ধান্ত | জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র ১০ লক্ষ মেট্রিক টন শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৮ লক্ষ মেট্রিক টনের আবেদন জমা পড়েছে। |
| ব্রাজিল থেকে আমদানি | প্রায় এক দশক পর দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিশ্ববাজার (বিশেষ করে ব্রাজিল) থেকে আবার চিনি আমদানি করছে ভারত। |
| উৎপাদন ও বিক্রির নজরদারি | চিনিকলগুলিকে প্রতি মাসে তাদের উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির সঠিক হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। |
আরও পড়ুনঃ হায় রে, হয়ে গেল ঠাকুর দেখা! পুজোর আগে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে
উৎসবের মরশুম ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণ
ভারতে অগাস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপূজা, দশেরা ও দীপাবলি উপলক্ষে মিষ্টি এবং অন্যান্য খাদ্যে চিনির ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। দেশের সর্ববৃহৎ এই উৎসবের মরশুমে যেন সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে কেন্দ্র।
খাদ্য মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে নজরদারির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত চিনি দেশে পৌঁছালে যোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য আসবে। ফলে উৎসবের দিনগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।


