কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দারপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত জঞ্জাল সাফাই না হওয়ার অভিযোগ উঠছিল। বাসিন্দাদের সেই ক্ষোভ ও অসন্তোষের নিরসন ঘটাতে মঙ্গলবার সকালে সোজা রাস্তায় নামলেন শিলিগুড়ির পুরকমিশনার। সঙ্গে ছিলেন পুরনিগমের জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতিনিধি দল।
সকাল থেকেই হায়দারপাড়ার অলিতে-গলিতে ঘুরে সরেজমিনে সাফাই অভিযানের তদারকি করেন পুরকমিশনার।
অভিযোগের কারণ ও স্থান পরিদর্শন
হায়দারপাড়ার বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ ছিল—রাস্তার ধারে ও নর্দমার মুখে জঞ্জাল জমে থাকছে, যা যথাসময়ে পুরসভার গাড়িতে তোলা হচ্ছে না। এর ফলে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু সহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
আজকের অভিযানে পুরকমিশনার নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন:
-
আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা: প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের আবাসিক গলিতে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ।
-
নর্দমা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা: প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনার কারণে প্লাবিত হওয়া নর্দমাগুলি দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশ।
-
বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহ (Door-to-Door Collection): পুরসভার বর্জ্য সংগ্রাহক গাড়িগুলি নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে আসছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।
কড়া পদক্ষেপ ও প্রশাসনের নির্দেশ
পরিদর্শন শেষে দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তদারককারীদের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন পুরকমিশনার। তিনি সাফ জানান, জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজে কোনো প্রকার শিথিলতা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুনঃ শারদীয় উৎসবের সূচনা; করম পুজোয় উৎসবের আমেজ
পুরকমিশনারের প্রধান নির্দেশনাসমূহ:
-
নিয়মিত সাফাই: প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত রাস্তার বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।
-
বিশেষ নজরদারি: প্রতি ওয়ার্ডে জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজে যুক্ত তদারককারীদের (Supervisors) নিয়মিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
-
নাগরিক সচেতনতা: যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলার জন্য বাসিন্দাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় এবং নির্দেশ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পুরকমিশনারের এই তৎপরতায় আশ্বস্ত হায়দারপাড়ার বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, পুরনিগমের এই কড়া পদক্ষেপে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দ্রুত ফিরবে।


