বিশেষ রাজ্য ও আইনি সংবাদ প্রতিবেদন:
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া ‘রক্ষাকবচ’-এর (Protection from Arrest) নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলো রাজ্য সরকার। গত অগস্ট মাসে কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিয়েছিল, তাতে পরিবর্তন চেয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীপাবলির ছুটি শেষে আদালত খুললেই এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জন্মদিনের মধ্যরাতে উত্তপ্ত কালীঘাট; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ
১. হাইকোর্টের রক্ষাকবচ ও রাজ্যের আপত্তির মূল কারণ
-
হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ: গত ২৫ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই সুরক্ষা বহাল থাকার কথা। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশযাত্রাও করতে পারবেন না।
-
রাজ্যের যুক্তি: সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে রাজ্যের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। রাজ্যের মূল যুক্তি ছিল, ফৌজদারি মামলায় প্রতিটি এফআইআরের জন্য পৃথক আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিকারের পথ থাকা উচিত। একসঙ্গে একাধিক এফআইআরকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো অভিযুক্তকে ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা ঢালাও সুরক্ষা দেওয়া আইনসম্মত নয়। রাজ্যের আবেদন ছিল ওই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হোক, যা সে সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য খারিজ করে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ৩০ নভেম্বরের পর কলকাতায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কো-অর্ডিনেটর, “আমার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে লাভ নেই” জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
২. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বনাম পুরোনো মামলা
-
অভিষেকের আইনি লড়াই: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত একের পর এক মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হওয়ার কথা জানানো হয়, যার মধ্যে ভবানীপুর, কালীতলা এবং বিষ্ণুপুর থানার মামলায় তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়।
-
আদালতের পর্যবেক্ষণ: শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য লক্ষ্য করেন যে, কালীতলা (২০১৭ সাল) এবং বিষ্ণুপুর (২০২০ সাল)—এই দুই পুরোনো ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগগুলি অনেক পরে এবং রাজ্যে পালাবদলের ঠিক পরপরই জুন মাসে দায়ের করা হয়েছে। যদিও মামলাগুলি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রণোদিত কি না, সেই বিষয়ে আদালত প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি, তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ফলে আইনি লড়াই এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গড়াচ্ছে। দীপাবলির অবকাশ শেষ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।


