তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছাল। শুক্রবার মধ্যরাতের সংঘর্ষের পর শনিবার বিকালেও থমথমে ও চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বজায় থাকে পুরো কালীঘাট চত্বরে। শুভানুধ্যায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং পুলিশের চরম নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানাতে শনিবার সরাসরি অভিষেকের বাসভবনের সামনে পৌঁছে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি কলকাতা পুলিশ, কেন্দ্র সরকার এবং সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন।
আরও পড়ুনঃ কালীক্ষেত্র কলকাতা; টলেমির ‘কলিগ্রামাম’ থেকে আজকের আধুনিক মহানগর
১. পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং কমিশনারের পদত্যাগ দাবি
-
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও ‘সন্ত্রাস’: ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, পুলিশের উপস্থিতিতেই দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “প্রলোভন দেখিয়ে কিছু মানুষকে পাঠানো হয়েছে। হামলা করার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের কাজ শুধু হামলা আর মামলা করা। তৃণমূল করলেই তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে, ফেক এনকাউন্টার করছে পুলিশ। পুলিশই এখন সন্ত্রাস চালাচ্ছে।”
-
নগরপালের পদত্যাগের দাবি: গোটা ঘটনার ব্যর্থতা এবং পুলিশি পক্ষপাতিত্বের দায় নিয়ে তিনি অবিলম্বে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান।
২. প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা ও ‘আইএনডিআইএ’ জোটের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
-
কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, “আপনি বলেছিলেন পরিবর্তন হয়েছে এবার ভালো কিছু হবে। কিসের ভালো হচ্ছে? বাংলায় মহিলাদের ওপর হামলা হচ্ছে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব, গণতন্ত্রকে হত্যা করবেন না। আমি বিজেপি কর্মীদের দায়ী করব না, আমি দায়ী করছি পুলিশকে। তারা নিজের দায়িত্ব পালন না করে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে।”
-
সীমানা সুরক্ষার বার্তা: পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি যোগ করেন, “এখানে অত্যাচার না চালিয়ে দেশের সীমানা রক্ষা করুন।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, জাতীয় স্তরে বিরোধীদের ‘আইএনডিআইএ’ (INDIA) জোটের কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যই এই ষড়যন্ত্রমূলক আক্রমণ চালানো হয়েছে।
৩. কালীঘাট থানার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও রাস্তায় পুজোর হুঁশিয়ারি
-
লিখিত অভিযোগ ও আন্দোলনের হুমকি: কালীঘাট থানার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে হবে। কালীঘাট থানার পুলিশ যদি বাধা দেয়, তবে আমি কালীঘাট মন্দিরের সামনেই রাস্তায় পুজো করব। চক্রান্ত করে রাস্তা আটকানো হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ রোমের মেট্রো স্টেশনে এসকেলেটরের ভয়াবহ দুর্ঘটনা; আহত রুশ ফুটবল ভক্তরা
৪. বর্তমান পরিস্থিতি
শুক্রবার গভীর রাতে অভিষেকের জন্মদিনের প্রথম প্রহরে শুভানুধ্যায়ীদের ওপর আক্রমণ, ব্যানার-পোস্টার ভাঙচুর এবং শনিবার বিকাল পর্যন্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন অবস্থান ঘিরে সমগ্র কালীঘাট এলাকা থমথমে হয়ে রয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গোটা কালীঘাট চত্বরকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।


