বিশেষ আন্তর্জাতিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর তথা পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী ক্রাকোর (Kraków) ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে নেমে এলো চরম বিভীষিকা। শনিবারের শান্ত বিকেলে ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল স্কয়ারে চলন্ত গাড়ি থেকে সাধারণ মানুষের ওপর আচমকা নির্বিচারে গুলি চালাল এক সেনা পোশাকপরিহিত বন্দুকবাজ। এই নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হামলায় চার জন নারীসহ অন্তত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই জন পুলিশ কর্মীসহ আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে জখম অবস্থায় হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘চিহ্নিত করো, নাম মোছো, দেশ থেকে তাড়াও’—নীতি স্পষ্ট করে দিল রণংদেহি অবস্থানে বিজেপি
১. যেভাবে ঘটল নারকীয় এই হামলা
-
সময় ও ঘটনাস্থল: শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টে (ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা) নাগাদ ক্রাকোর বিখ্যাত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ‘মেন মার্কেট স্কয়ার’ (Main Market Square)-এ ঘটনাটি ঘটে।
-
হামলার ধরন: সামরিক পোশাকে সজ্জিত হামলাকারী একটি গাড়িতে করে চত্বরে প্রবেশ করে এবং গাড়ির জানলা দিয়ে সেনায় ব্যবহৃত ভারী আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। ছুটির দিন হওয়ায় স্কয়ারে অজস্র পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। গুলির শব্দে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়; মানুষ প্রাণ বাঁচাতে আশপাশের রেস্তোরাঁ ও ভবনে আশ্রয় নিতে ছোটাছুটি শুরু করেন।
-
ছবি ও ভিডিও: সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা গিয়েছে, ঐতিহাসিক পাথুরে রাজপথে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন একাধিক মানুষ, আর তাঁদের বাঁচানোর জন্য আর্তচিৎকার করছেন পথচারীরা।
২. পুলিশের পালটা পদক্ষেপ ও হামলাকারীর পরিচয়
-
গুলির লড়াই ও গ্রেফতার: খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের বিশেষ দল। বন্দুকবাজের সঙ্গে পুলিশের তীব্র গুলির লড়াই বাধে। সংঘাতের পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হামলাকারীকে আটক করা হয়।
-
পুলিশ কর্মীদের জখম হওয়া: সংঘর্ষের সময় দুই জন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে এক জনের শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
-
হামলাকারীর পরিচয়: প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া হামলাকারী পোল্যান্ডেরই এক নাগরিক। তাঁর গাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে বা কোন আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুনঃ বদ্রীনাথ ধামে পাহাড়ি ঢালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; শব্দবাজি ও আতশবাজি ব্যবহারে উদ্বেগ
৩. রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক বার্তা
-
পোলিশ নেতৃত্বের শোকপ্রকাশ: ঘটনায় স্তব্ধ সমগ্র পোল্যান্ড। দেশের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক (Donald Tusk) অবিলম্বে রাজধানী ওয়ারশ থেকে ক্রাকোর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরকি সহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
-
আমেরিকার বার্তা: পোল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে ‘বর্বর ও নৃশংস গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই সংকট মুহূর্তে পোল্যান্ডের পাশে থাকার এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
ঐতিহাসিক ও সুরক্ষিত পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ক্রাকোর বুদ্বুদে এমন নজিরবিহীন সামরিক কায়দায় হামলায় ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত নতুন উদ্বেগের মেঘ ঘনিয়েছে।


