বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের রেশ কাটার আগেই দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর গোলাবারুদসহ এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেপ্তার করল সিক্রেট সার্ভিস। আটক যুবকের নাম রনি জর্ড্রিক্স গুয়ানিপা চিরিনোস (Ronny Yordrix Guanipa Chrinos) (২৬)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, মস্তিষ্কে পাওয়া বিশেষ বার্তার ওপর নির্ভর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সে সেখানে এসেছিল।
১. পুলিশি তল্লাশি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
-
সন্দেহজনক ট্রাক: রুটিন টহলের সময় হোয়াইট হাউসের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চোরাই ট্রাকের ওপর টহলদারি অফিসারদের সন্দেহ হয়। অফিসাররা গাড়ির কাছে গিয়ে চালকের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে যুবকটির কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
-
মারাত্মক অস্ত্রের ভান্ডার: গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে এবং যুবকের নির্দেশিত ব্যাগ থেকে পুলিশ একটি এআর-১৫ (AR-15) রাইফেল, একটি ম্যাক-১০ (Mac-10) মেগাজিন পিস্তল, একটি গ্লক (Glock) পিস্তল এবং প্রচুর তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে।
২. “মস্তিষ্কের নির্দেশে” ট্রাম্পকে খুনের ছক
-
ভাষা ও স্বীকারোক্তি: অভিযুক্ত ইংরেজি ভাষা না জানার কারণে গুগল ট্রান্সলেটরের (Google Translate) সাহায্য নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। সে দাবি করে, তার মাথার ভিতর থেকে অনবরত নির্দেশ আসছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ট্রাম্পকে হত্যা করার।
-
গাড়ির উৎস: তদন্তে জানা যায়, ওই যুবক দক্ষিণ ক্যারোলিনা (South Carolina) থেকে চুরি হওয়া একটি ট্রাকে করে বসবাস করছিল এবং সেটি নিয়েই সরাসরি মার্কিন রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়িতে দীপাবলির অন্য ছবি; প্রতিবেশী নেপালের আদলে পালিত হচ্ছে অনন্য পাঁচ দিনব্যাপী ‘কুকুর তিহার’ উৎসব
৩. নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মামলার অগ্রগতি
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। সে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রকারী চক্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আদালতের নির্দেশে তাকে আপাতত হেফাজতেই রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করা হয়েছে।


