বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশে অবস্থানরত অতি গভীর নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়াগত অনুকূল পরিস্থিতির কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে আন্তর্জাতিক নামকরণ ব্যবস্থা অনুযায়ী এর নাম রাখা হবে ‘অর্ণব’ (Arnab)।
কেন দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে এই সিস্টেম?
আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবেশ ও অন্যান্য অনুকূল উপাদানের কারণে সিস্টেমটি অতি দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি করছে:
-
অনুকূল পরিবেশ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এবং কম উল্লম্ব বায়ু (Vertical Wind Shear)।
-
দীর্ঘস্থায়িত্ব: স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগে এটি প্রায় ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা উষ্ণ সমুদ্রের উপর অবস্থান করতে পারে। ফলে জলীয় বাষ্প শোষণ করে নিম্নচাপটি ক্রমাগত ক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুনঃ উঠে গেল মান্থলি প্ল্যান, এবার থেকে মাসে দু’বার রিচার্জ? উৎসবের মরসুমে এয়ারটেল ইউজার্সদের বিরাট ধাক্কা
দক্ষিণবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য প্রভাব
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করার পর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প পূর্ব ও পূর্ব-উত্তর ভারতে প্রবেশ করবে, যার প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গেও:
| ক্ষেত্র / অঞ্চল | সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি |
| বৃষ্টিপাতের মাত্রা | দক্ষিণবঙ্গে আজ থেকেই বৃষ্টি বাড়বে; আগামী কয়েক দিন দফায় দফায় মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। |
| ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা | উপকূলবর্তী অঞ্চল ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। |
| বাতাসের গতিবেগ | সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। |
| স্থায়িত্ব | এই বৃষ্টিপাতের সক্রিয়তা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। |
উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।


