বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
বোফর্স, টুজি স্পেক্ট্রাম কিংবা কয়লা কেলেঙ্কারির মতো অতীতে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম প্রকাশ্যে এনেছে ভারতের স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম। সেই ধারা বজায় রেখেই এবার দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক সংস্থা ‘ভারত নির্বাচন কমিশন’ (ECI)-এর শীর্ষ স্তরের নজিরবিহীন সংঘাত ও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা সামনে এনে জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করলেন বিশিষ্ট অনুসন্ধানী সাংবাদিক ঋতিকা চোপড়া। তাঁর চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এবার সুপ্রিম কোর্টে ফৌজদারি শাস্তির দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ চরম অস্বস্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার! এবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা
কী উঠে এসেছে ঋতিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে?
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ (The Indian Express)-এ প্রকাশিত ঋতিকা চোপড়ার বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার।
প্রতিবেদনের প্রধান মূল বিষয়সমূহ:
-
দুই কমিশনারের ১৪ বার আপত্তি: গত ১০ মাসে স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) এবং ইসিআইনেট (ECINet) সিস্টেম নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়।
-
ফর্ম-৬ সংশোধন বিতর্ক: নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম-৬’-এ বেআইনিভাবে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীর পূর্বপুরুষদের নাম আগের ভোটার তালিকায় ছিল কি না তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।

-
১৩ কোটি ভোটারের নাম ও ডেটা কেন্দ্রীকরণ: এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে প্রবিষ্ট কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং স্থানীয় ইআরঅ (ERO)-দের ক্ষমতা খর্ব করে আইটি বিভাগের হাতে ডেটা কেন্দ্রীভূত করার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে প্রবীণ সাংবাদিক প্রসুন আচার্যও তাঁর নিজস্ব পোর্টালে এসআইআর চলাকালীন এই বিষয়ে আলোকপাত করেছিলেন। তবে জাতীয় স্তরে বিস্তৃত তথ্যপ্রমাণসহ ঋতিকা চোপড়ার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হতেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘১৯৬৬-তে জন্ম, মাধ্যমিক পাশ ১৯৬৫-তে’! নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে? হাইকোর্টে শুনানি শেষ, রায় স্থগিত
সত্য উদ্ঘাটনে আপসহীন এই সাংবাদিকের শিক্ষাজীবন ও পেশাদার জীবনের শক্ত ভিত তৈরি হয়েছিল এই তিলোত্তমা কলকাতাতেই:
| বিষয় | পরিচিতি ও বিবরণ |
| শিক্ষা | সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা (স্নাতক: মাস কমিউনিকেশন ও ভিডিওগ্রাফি)। তিনি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রাক্তন ছাত্রী। |
| পেশাগত সূচনা | ২০০৬ সালে কলকাতায় ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু। পরবর্তীতে ‘মেল টুডে’, ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ ও বর্তমানে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর মুম্বাই সংস্করণের রেসিডেন্ট এডিটর। |
| বিশেষজ্ঞতা | জাতীয় রাজনীতি, কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রশাসন, শিক্ষা এবং নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত গভীর অনুসন্ধানী রিপোর্টিং। |
ঝুঁকি ও নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতীক
আমাদের দেশে সৎ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অতীতে গৌরী লঙ্কার মতো সাংবাদিকদের প্রাণ হারাতে হয়েছে, কিংবা রভিশ কুমার, সিদ্দিক কাপ্পান ও একাধিক নারী সাংবাদিকদের প্রশাসনিক রোষ ও হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। সেই আবহে দাঁড়িয়ে, শাসক ও প্রশাসনের ক্ষমতাধর পদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমন তথ্যভিত্তিক ও সাহসী রিপোর্টিং তুলে ধরে ঋতিকা চোপড়া ফের প্রমাণ করলেন—সত্যের সন্ধানে স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আজও কতটা অপরিহার্য।


