বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করতে রাজ্য বিজেপির সংগঠনে এক বিশাল রদবদল ঘটানো হলো। একাধিক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীকে রাজ্য কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে সেখানে আনা হয়েছে নতুন মুখ। মূলত দলে “এক ব্যক্তি, এক পদ” নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে যাঁরা মন্ত্রী বা অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের দলীয় সাংগঠনিক পদের ভার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাদ পড়লেন যেসব হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী
-
যাদবপুর: যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
-
মহিলা মোর্চা: মহিলা মোর্চার দীর্ঘদিনের প্রধান ফাল্গুনী পাত্রের স্থানে আনা হয়েছে নতুন নেতৃত্ব।
-
অন্যান্য রাজ্য পদ: পদ হারিয়েছেন হেভিওয়েট নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল এবং তাপস রায়।
মোর্চা সমূহের নতুন শীর্ষ নেতৃত্ব
সংগঠনকে নতুন রক্তে চাঙ্গা করতে বিজেপি-র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোর্চায় নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে:
| মোর্চার নাম | নবনিযুক্ত সভাপতি / প্রধান | পূর্বসূরি / বিশেষ মন্তব্য |
| যুব মোর্চা | অমিত সামন্ত (আমতার বিধায়ক) | ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁ-কে সরিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলো। |
| মহিলা মোর্চা | অঞ্জনা বসু | ফাল্গুনী পাত্রের স্থানে দায়িত্ব গ্রহণ। |
| ওবিসি মোর্চা | ধনঞ্জয় ঘোষ | নতুন দায়িত্বভার অর্পণ। |
| এসসি মোর্চা | বিশ্বজিৎ বিশ্বাস | নতুন দায়িত্বভার অর্পণ। |
আরও পড়ুনঃ সাংবাদিকতার তথ্যে নড়ে উঠল নির্বাচন কমিশন; নেপথ্যে কলকাতার মেয়ে ঋতিকা চোপড়া
জেলা স্তরেও রদবদল
শুধু রাজ্য কমিটি বা মোর্চা স্তরেই নয়, গ্রাসরুট স্তরে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে একযোগে রাজ্যের সাতটি জেলার জেলা সভাপতিকেও পরিবর্তন করেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে সাংগঠনিক স্থবিরতা দূর করতে এবং তরুণ ও সক্রিয় নেতাদের সামনের সারিতে আনতেই রাজ্য বিজেপির এই বড় পদক্ষেপ।


