সোশ্যাল মিডিয়ায় বিলাসিতা প্রদর্শনের প্রবণতা যেমন কন্যাকুমারীর এক ইনফ্লুয়েন্সারকে বিপদে ফেলেছে, তেমনই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চলমান জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি ঘিরে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। তবে জাতীয় স্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এককাট্টা অবস্থানের আবহেও স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিল সিপিআইএম (CPIM)—দিল্লির সমঝোতা বাংলায় কোনোভাবেই কার্যকর হবে না।
সম্প্রতি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফলে জল্পনা তৈরি হয়, তবে কি বাংলায় আলিমুদ্দিন ও তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্কের অবসান ঘটতে চলেছে?
‘দিল্লিতে দোস্তি, বাংলায় লড়াই’: সেলিমের কড়া অবস্থান
এই সমস্ত জল্পনা ও জল্পনাভিত্তিক সমীকরণ পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সিপিএমের নীতিগত বিরোধিতায় কোনো আপস বা নমনীয়তা দেখানো হবে না।
-
ঐতিহাসিক খোঁচা: মহম্মদ সেলিম পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় বাংলায় বামপন্থীদের সরাতে তৃণমূল কংগ্রেসই বিজেপির হাত ধরেছিল। এমনকি জোটের হাত ধরে বাম আমলে রাজ্য দুটি লোকসভা আসন পেয়েছিল বিজেপি। বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক জমি তৈরি করার পেছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান ছিল বলে দাবি বাম নেতৃত্বের।
-
অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি: আলিমুদ্দিনের বার্তা, কেবল চিঠির উত্তর দেওয়াই নয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় জাতীয় স্তরে সমর্থনের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নীতিগত অবস্থানও স্পষ্ট করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘জ্ঞানেশ তো ভোট চোর’, সিপিএমের নতুন প্যারোডি, নিশানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের মুখোমুখি সমীকরণ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর, দলের নাম ও প্রতীক হারানোর মতো ঘটনার পরও জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই রয়ে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর একাধিকবার তিনি বিজেপি বিরোধিতায় বামপন্থীদের কাছে ‘বন্ধুত্বে’র আবেদন জানালেও, সিপিএম সেই প্রস্তাব বারবার খারিজ করে দিয়েছে।
| রাজনৈতিক মঞ্চ | সিপিএম ও মমতার সম্পর্কের বর্তমান রূপরেখা |
| দিল্লি (জাতীয় স্তরে) | নির্বাচন কমিশন, এসআইআর (SIR) বিতর্ক এবং মোদি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষ যৌথ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। |
| পশ্চিমবঙ্গ (রাজ্য স্তরে) | বর্তমান শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী পক্ষ মমতার দল—উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই চালিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর বামপন্থীরা। |
বিরোধী শিবিরের এই ‘দিল্লিতে বন্ধুত্ব আর রাজ্যে বিরোধিতা’র দ্বিমুখী নীতি নিয়ে শাসক বিজেপি প্রতিনিয়ত খোঁচা দিয়ে চলেছে। তবে মহম্মদ সেলিমের সাম্প্রতিক স্পষ্ট বক্তব্যে রাজ্য রাজনীতির মূল সুর অপরিবর্তিতই রইল—বাংলায় বামপন্থীদের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য তৃণমূল ও বিজেপি, উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই।


