বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
দেশে ক্রমবর্ধমান ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বামপন্থীদের হাত মিলিয়ে বা একই সমীকরণে চলা উচিত কি না—এই মর্মে বাম শিবিরের অন্দরেই নতুন প্রশ্ন ও বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানারে নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিপিআইএম শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌথ কৌশল গ্রহণের পর, আরএসপি (RSP)-সহ বাম শরিকদের অন্দরে এই নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
আরও পরুন: বেনজির বন্ধুত্ব! ইতিহাস পিছনে রেখে সিপিএমের সঙ্গে কথা মমতার
বিতর্কের মূল প্রেক্ষাপট ও উত্থাপিত প্রশ্ন
জাতীয় স্তরে বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন বাম নেতৃত্বের একাংশ। তবে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য স্তরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, হিংসা ও রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগ থাকার কারণে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সহজ হচ্ছে না তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পক্ষে। কিছুক্ষন আগেই বামেদের আর এস পি দলের সর্ব ভারতীয় নেতা অশোক ঘোষ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন সেখানে তিনি লেখেন “তাহলে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের সংগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই বামপন্থীদের চলতে হবে???“
| প্রধান দিকসমূহ | বাম শিবিরের দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বিধা |
| জাতীয় প্রয়োজন | সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ও ভূমিকা অন্যতম প্রধান অক্ষে পরিণত হয়েছে। |
| রাজ্যের বাস্তবতা | পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন উৎখাত এবং পরবর্তীতে তৃণমূল আমলে বাম কর্মী-সমর্থকদের ওপর চলা রাজনৈতিক আক্রমণের স্মৃতি এখনো তীব্র। |
| দ্বিমুখী নীতি নাকি কৌশলগত ঐক্য? | দিল্লিতে একমঞ্চে আন্দোলন বা আলোচনা আর রাজ্যে তীব্র বিরোধিতা—এই জোড়া অবস্থান সাধারণ ভোটারদের কাছে কী বার্তা দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। |
আরও পড়ুনঃ সামাজিক গোঁড়ামি সঙ্গে চৃড়ান্ত দরিদ্রতা, সহজ ছিল না ‘বিদ্য়াসাগর’ হয়ে ওঠা
বামফ্রন্ট ও শরিক দলগুলির অবস্থান
আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো শরিক দলগুলির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু বিভ্রান্তি ও ভিন্নমত দৃশ্যমান:
১. সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্য: একটি অংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো বিশ্বায়িত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। ফলে বিজেপিকে ঠেকাতে জাতীয় স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আঞ্চলিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা অনিবার্য কৌশল।
২. রাজ্য রাজনীতির ভারসাম্য: অপর অংশের শক্ত যুক্তি, রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক লড়াইকে কোনোভাবেই নমনীয় করা যাবে না। জাতীয় স্তরে ইস্যুতে ইস্যুতে কৌশলগত অবস্থান বজায় থাকলেও, রাজ্যের মাটিতে রাজনৈতিক লড়াই সমান্তরালভাবেই চলবে।
জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ বৈঠক এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বামেদের এই দ্বিমুখী কৌশল ও নীতিগত প্রশ্নের সমাধান কীভাবে হয়, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।



