বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি:
৩৪ বছরের দীর্ঘ বাম শাসন উৎখাত করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতার উত্থান—ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রধান অধ্যায়। সংসদীয় ক্ষেত্র থেকে রাজপথের অনশন, দীর্ঘদিনের সিপিএম-বিরোধী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েই জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমান জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির মোকাবিলায় সেই সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গেই মমতার এই নজিরবিহীন সমীকরণ বা ঘনিষ্ঠতা এক নতুন ইতিহাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় মঞ্চে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত এক ইংরেজি দৈনিকের খবর প্রকাশের পর জাতীয় স্তরে সচল হয়ে উঠেছেন বিরোধী নেতৃত্ব। সেই প্রেক্ষিতেই বিরোধী জোটের সমন্বয় বাড়াতে সরাসরি সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এবং কংগ্রেস সংসদ রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
| বিষয় ও ক্ষেত্র | যোগাযোগের প্রধান দিক ও উদ্যোগ |
| সিপিএমের প্রতিক্রিয়া ও চিঠি | জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক নিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির পাঠানো চিঠির জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও সম্মতি জানান মমতা। |
| কমিশন ইস্যুতে জোট গঠন | নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হতে আপ (AAP), ডিএমকে (DMK) এবং বিজেডির (BJD) মতো জোটের বাইরের দলগুলিকেও এক ছাতার তলায় আনতে যৌথ ভূমিকা রাখছেন বেবি ও মমতা। |
| অভিষেক-বেবি আলোচনা | দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকের ফাঁকে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের সাথে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। |
আরও পড়ুনঃ দাঁড়িয়ে শিক্ষক, চেয়ারে আসীন মন্ত্রী; ভাইরাল ছবি ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, তীব্র আক্রমণে বিরোধীরা
অতীতের অবস্থান ও পরিবর্তনের বার্তা
অতীতে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের প্রাথমিক বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে একই টেবিলে বসলেও, কখনো আলিমুদ্দিন বা এ কে গোপালন ভবনের শীর্ষনেতাদের সাথে আলাদা করে বার্তা আদান-প্রদান করতে দেখা যায়নি তৃণমূল সুপ্রিমোকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিককালে মুকুন্দপুরের মিছিলে হামলায় আহত তৃণমূল কর্মীদের খবর সিপিএমের দলীয় মুখপত্র ‘গণশক্তি’-তে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হওয়া এবং জাতীয় স্তরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ ফোনালাপ—উভয় শিবিরের মধ্যে কৌশলী অবস্থান বদলের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে এই নজিরবিহীন সমন্বয় আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে কী রূপ দেয়, এখন সেটাই দেখার।


