বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
রাজ্য রাজনীতি ও সংবাদ মাধ্যমের সংযোগস্থল যখন তথাকথিত ‘স্পনসরড নিউজ’ এবং ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার কেনাবেচার অভিযোগে উত্তাল, ঠিক তখনই পেশাদার সততা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অনন্য নজির গড়ে তুলল ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘বঙ্গবার্তা’। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন ও তার ফলাফল প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই কোনো প্রকার বিতর্কিত আর্থিক অনুদান বা প্রচারের টাকা গ্রহণ করেনি আমাদের গর্বের এই সংবাদ মাধ্যমটি।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বিভিন্ন দলের ভোটের খরচের খতিয়ান প্রকাশ্যে আসতেই যখন একাধিক নেটপ্রভাবী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে ‘বঙ্গবার্তা’ নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রেখে পাঠকদের আস্থা অর্জন করেছে।
নীতিভিত্তিক সাংবাদিকতা ও নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত
নির্বাচনের মরসুমে যেখানে জনমত বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির জন্য কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপনী বা অনানুষ্ঠানিক বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছিল, সেখানে ‘বঙ্গবার্তা’ শুরু থেকেই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
-
কঠোর সম্পাদকীয় নীতি: কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা প্রচার বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর ভাবমূর্তি তৈরির বদলে জনসাধারণের আসল সমস্যা, নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত নিয়মাবলী এবং নিরপেক্ষ গ্রাউন্ড রিপোর্ট তুলে ধরাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
-
আর্থিক স্বচ্ছতা: নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন এবং ফলাফল ঘোষণার পর পর্যন্ত দলীয় কোনো প্রচার তহবিল থেকে অর্থ বা অনুদান নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুনঃ পার্ক স্ট্রিটের গোমাংস বিতর্ক ও সায়কের গ্রেফতারি; বিজেপির নির্বাচন খরচের তালিকায় কোটি টাকার ইউটিউবার-যোগ ঘিরে শোরগোল
বর্তমান পেক্ষাপটে এই পদক্ষেপের গুরুত্ব
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া খরচের বিবরণীতে দেখা গেছে, কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি ও বিভিন্ন ডিজিটাল পেজকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক লাভ তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমন এক কলঙ্কজনক আবহে ‘বঙ্গবার্তা’-র এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের গণমাধ্যম ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
সংবাদ মাধ্যমের মূল স্তম্ভ হলো সাধারণ পাঠকের বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো রাজনৈতিক প্রলোভনের কাছে মাথা নত না করে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর এই বার্তা আগামী দিনে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করছে সুশীল সমাজ।


