বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবরকে কেন্দ্র করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের বিরোধ ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল তুঙ্গে। দুই নির্বাচন কমিশনারের অন-রেকর্ড আপত্তি এবং নতুন ভোটার তালিকা সংশোধন (SSR) স্থগিত রাখা নিয়ে তৈরি বিতর্ক এখন কেবল রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজপথ পর্যন্ত। বিরোধীদের পাশাপাশি এবার এনডিএ-র শরিক দলগুলিও সিইসি-কে সাধারণ মানুষের ভরসা রক্ষায় মুখ খোলার দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সাংবাদিকতার তথ্যে নড়ে উঠল নির্বাচন কমিশন; নেপথ্যে কলকাতার মেয়ে ঋতিকা চোপড়া
ঘটনাপ্রবাহের মূল হাইলাইটস
-
এনডিএ শরিকদের বার্তা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান (এলজেপি), উপেন্দ্র কুশওয়াহা (আরএলএম) এবং চন্দ্রবাবু নাইডু (টিডিপি) স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিরোধীদের পাত্ত না দিলেও সাধারণ ভোটারের ভরসা ও মানসিক উদ্বেগ নিরসনে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
-
সুপ্রিম কোর্টে মামলা: আইনজীবী শৈলেন্দ্র মানি ত্রিপাঠী শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘সাধারণ অভিযুক্তের মতো’ আইনি বিচার ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, ২০২৩ সালের আইনের ১৬ নম্বর ধারায় নির্বাচন কমিশনারদের পাওয়া বিশেষ রক্ষাকবচ বাতিলেরও আবেদন করা হয়েছে।
-
দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও গ্রেফতার: দিল্লিতে সীমানা ভেঙে নির্বাচন কমিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টায় বহু নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন যোগেন্দ্র যাদব, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আইসা নেত্রী নেহা বরা ও অঞ্জলি ভরদ্বাজ। আসামে সংসদ গৌরব গগৈসহ কংগ্রেস কর্মী এবং পটনা, কলকাতা, শ্রীনগরসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান চালায় পুলিশ।
-
ককরোচ জনতা পার্টির বিস্ফোরক প্রশ্ন: সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করেছেন— “ভোট চুরি ও দল ভাঙানোর প্রক্রিয়ায় জেনেও ভোটে অংশ নিয়ে বিরোধীরা কেন এই অসচ্ছ ব্যবস্থাকে বৈধতা দিচ্ছে?” জবাবে তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন জানান, ভোট বয়কট করা মানে বিজেপিকে এক তরফা জয় উপহার দেওয়া।
আরও পড়ুনঃ ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্টে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি; সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ও কমিশনের স্পষ্টীকরণ
| প্রধান অভিযোগ | নির্বাচন কমিশনের জবাব / অবস্থান |
| নতুন ভোটারদের বঞ্চনা (SSR বন্ধ রাখা): দুই কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু ও বিবেক জোশীর আপত্তি সত্ত্বেও ১০ মাসে ১৪ বার একতরফা সিদ্ধান্ত ও এসএসআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার অভিযোগ। | আইনভিত্তিক ব্যাখ্যা: জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০-এর ২১(৩) ধারা অনুযায়ী এসএসআর এবং এসআইআর একসঙ্গে চালানো বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৫ সালে এসআইআর শুরুর পর ১৮-২৮ বছর বয়সি ২ কোটি ৭৩ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম তোলা হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই ও ১ অক্টোবর ১৮ বছর পূর্ণ করা তরুণরা ফর্ম-৬ দিয়ে যে কোনো সময় নাম তুলতে পারেন। |
| জ্ঞানেশ-কন্যার মামলায় রস্টার লঙ্ঘন: নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের (জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা) মামলা প্রধান বিচারপতির নির্ধারিত বেঞ্চে না পাঠিয়ে অন্য বেঞ্চে পাঠানো ও অডিও মিউট রাখার অভিযোগ। | আইনজীবীদের চিঠি: ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে। |
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ে তৈরি এই অভূতপূর্ব টানাপোড়েন আগামী দিনে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।


