বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:
যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের রক্তক্ষয় রুখে এবার রোবট ও ড্রোনের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বাজিমাত করল ইউক্রেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধকৌশলে যুগান্তকারী বদল এনে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে ‘আত্মঘাতী রোবট সেনা’ নামিয়ে বিপুল সাফল্য পাওয়ার দাবি করল কিয়েভ। ইউক্রেনীয় সেনার দাবি, চার মাস ধরে চলা এক বিশেষ মেগা অপারেশনে তারা ৩,০০০-এরও বেশি রুশ জওয়ানকে নিকেশ করার পাশাপাশি দোনেৎস্ক অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম ও বসতি পুনর্দখল করেছে।
আরও পড়ুনঃ বেঙ্গালুরুতে অবতরণের সময় লেজে আঘাত! ফের ইন্ডিগোর বিমানে বিপত্তি
‘অপারেশন ভিভালদি’: এক নজরে অভিযানের খতিয়ান
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই ‘অপারেশন ভিভালদি’ (Operation Vivaldi) সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জোটে জট; জোট বাঁধন তৈরি হবে কি, তার আগেই ভাঙন! বৈঠকে থাকবেন না অখিলেশ; ‘হাত’ ছাড়ছে শরিকরা
যেভাবে কাজ করেছে এই ‘রোবট প্রযুক্তি’
ইউক্রেনের থার্ড আর্মি কোরের কমান্ডার জেনারেল আন্দ্রি বিলেৎস্কি জানিয়েছেন, মানব সেনার জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে ভূমি ও আকাশপথের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে এই প্রযুক্তি সাজানো হয়েছিল:
১. ড্রোনের সাহায্যে পরিবহণ: শক্তিশালী হেভি-লিফটিং ড্রোনের সাহায্যে বিস্ফোরক বোঝাই চার চাকার ছোট রোবট যানগুলিকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে রুশ সেনাঘাঁটির প্রায় ১৪.৫ কিলোমিটার ভেতরে ফেলে আসা হত।
২. দূরনিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং: স্থলভাগে নেমে রোবটগুলি নিজস্ব ক্যামেরা ব্যবহার করে ৩৬০-ডিগ্রি ভিউ সংগৃহীত করত। দূর থেকে স্যাটেলাইট বা রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে অপারেটররা নিখুঁতভাবে শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করতেন।
৩. আত্মঘাতী বিস্ফোরণ: নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, সেনাঘাঁটি বা ল্যান্ডমাইনের কাছাকাছি পৌঁছাতেই রোবটের ভেতরে থাকা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ফাটিয়ে হামলা চালানো হতো।
রণক্ষেত্রের বদলে যাওয়া সমীকরণ
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে দিল। এর ফলে ল্যান্ডমাইন, শত্রুর গোলাগুলি বা সরাসরি যুদ্ধের মুখোমুখি না হয়ে মানব সেনার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে। জেনারেল বিলেৎস্কির দাবি, “বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে প্রথমবার শত্রু ভূখণ্ডের এত গভীরে ড্রোন থেকে রোবট নামিয়ে এভাবে সফল আত্মঘাতী হামলা চালানো হলো।”


