নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই এক বড় আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া মোট ছ’টি ফৌজদারি মামলায় আগামী তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চের এই নির্দেশিকার ফলে জেলের বাইরে থেকেই নিজের নির্বাচনী প্রচার চালনা ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন মিলন প্রধান।
আগামী ২১ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে উচ্চ আদালত।
আরও পড়ুনঃ টিকিট কেটে দেখতে হবে দুর্গাপুজো! ইন্দ্রনীল সেনকে সাতসকালে কসবার বাড়িতে দুর্গাপুজো দেখাচ্ছে ED
একগুচ্ছ শর্তে মিলল জামিন
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ মিলন প্রধানকে জামিন দেওয়ার সময় কড়া কিছু আইনি শর্ত বেঁধে দিয়েছে:
-
থানায় যোগাযোগ: জামিনে মুক্ত থাকাকালীন প্রতিদিন সকাল ৮:৩০ এবং রাত ৯:৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট থানার তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) ফোন করে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
-
আত্মসমর্পণ: উপনির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মাত্রই তাঁকে অবিলম্বে হলদিয়া আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
আইনি প্রক্রিয়ার পটভূমি
জামিনের আবেদন জানিয়ে গত সপ্তাহেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবীরা। তাঁরা এজলাসে জানান যে, যেহেতু মিলন প্রধান আসন্ন উপনির্বাচনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী, তাই দীর্ঘ শুনানি প্রক্রিয়ার কারণে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে।
যদিও শুক্রবার চার ও দুটি আলাদা মামলায় জামিনের শুনানির দিনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, অবশেষে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আপাতত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতেই তাঁকে এই ৩ সপ্তাহের বিশেষ অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হলো।
আরও পড়ুনঃ গলদ বিসমিল্লায়; ‘ফেসবুকে আছি, বুথে ফেস নেই’! আত্মপ্রচার-‘অকমিউনিস্ট আচরণ, শাখায় নতুন মুখ ‘শূন্য’; সংগঠনের নিউক্লিয়াসেই মূল রোগ
১৯ বছরের পুরোনো মামলা ও রাজনৈতিক বিতণ্ডা
২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির আন্দোলন চলাকালীন খুন, খুনের চেষ্টা, দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত ও লুটপাটের অভিযোগে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় মিলনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পুরোনো মামলা দায়ের ছিল। সম্প্রতি সেই ১৯ বছরের পুরোনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের মূল অভিযোগ, উপনির্বাচনের লড়াই থেকে কংগ্রেস প্রার্থীকে দূরে রাখতেই এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের এই নির্দেশের পর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেস শিবিরের প্রচারে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলি।


