হার্নিয়ার সাধারণ অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এক চরম বিরল এবং তাজ্জব করা চিকিৎসাকাহিনীর সাক্ষী থাকলেন চিকিৎসকেরা। পুরুষের বাহ্যিক গঠন থাকা সত্ত্বেও এক যুবকের পেটের ভেতর সন্ধান মিলল পূর্ণাঙ্গ জরায়ু এবং ডিম্বনালির (Fallopian tube)। কেবল তাই নয়, ওই ব্যক্তির শরীরে কোনো অণ্ডকোষের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের এক নার্সিংহোমে ঘটা এই ঘটনাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জগতে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ কেস বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ফ্রি-তে ২টো LPG সিলিন্ডার; উৎসবের মরশুমে বিরাট ঘোষণা রাজ্য সরকারের
ঘটনার বিবরণ ও অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতায় চিকিৎসকেরা
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত যুবক দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বজবজের বাসিন্দা। কুঁচকির হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে গত সোমবার তিনি ডায়মন্ড হারবারের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন। পরদিন মঙ্গলবার তাঁর অস্ত্রোপচার নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের টেবিল খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সার্জনদের।
অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. এইচ জামান বলেন:
“আমরা সাধারণ হার্নিয়া অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু পেটের ভেতর প্রবেশ করতেই দেখা যায় সেখানে একজন নারীর শরীরের প্রজনন অঙ্গ অর্থাৎ জরায়ু এবং ডিম্বনালি বিদ্যমান। পুরুষ শরীরে এমন স্ত্রী-জনন অঙ্গের উপস্থিতি আমাদের রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছে। রোগী মানসিকভাবে এবং জিনগতভাবে পুরুষ না নারী, তা নিশ্চিত করতে আমরা তাঁর ক্রোমোজোম স্টাডি (Karyotyping) করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: ‘সিউডোহেরম্যাফ্রোডিটিজম’
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় পুরুষদেহে এই ধরনের বিপরীত লিঙ্গের প্রজনন অঙ্গের উপস্থিতিকে ‘সিউডোহেরম্যাফ্রোডিটিজম’ (Pseudohermaphroditism) বা ইন্টারসেক্স কন্ডিশন বলা হয়।
-
কারণ: ভ্রূণ বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে হরমোনের অস্বাভাবিকতা কিংবা অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেনের (Androgen) প্রভাবের কারণে এমনটা ঘটতে পারে।
-
শারীরবৃত্তীয় জটিলতা: অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রার তারতম্যের ফলে নারীদের ক্লিটোরিস অস্বাভাবিক বড় হয়ে বাহ্যিকভাবে পুরুষাঙ্গের মতো আকার ধারণ করে। অথচ ভেতরে জরায়ু থেকে যায় এবং বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অণ্ডকোষ তৈরি হয় না।
আরও পড়ুনঃ যৌনসুখ মেটাতে পুরুষাঙ্গে খোলা সেফটিপিন ও হেয়ার ক্লিপ! দুর্গাপুরে চিকিৎসকদের সফল অপারেশন
আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা: পরবর্তী চিকিৎসার ধাপ
ডায়মন্ড হারবারের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রায় ১৮ বছর আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেও এক যুবকের শরীরে ঠিক এমনই জরায়ু ও ডিম্বনালির সন্ধান পেয়েছিলেন শহরের চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী, এই ধরণের বিরল শারীরিক পরিস্থিতি সামনে এলে প্রথমত রোগীর পূর্ণাঙ্গ সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং করা হয়। রোগী ভবিষ্যতে পুরুষ হিসেবে নাকি নারী হিসেবে জীবনযাপন করতে চান, তা তাঁর ওপর নির্ভর করে। সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে হরমোন থেরাপি এবং প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে চিকিৎসা এগোবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।


