বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে একজোট হলো বিরোধীরা। মঙ্গলবার নতুন দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত এক হাই-টি বা চা চক্রে মিলিত হন ইন্ডি (INDIA) জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে রাহুল গান্ধী হুঙ্কার দিয়েছেন, “জ্ঞানেশদের ঘিরে জাল গুটিয়ে আসছে, আগামী দিনে চাপ আরও বাড়বে।“ তবে আন্দোলনের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা কৌশলগত কারণেই এখনই খোলসা করতে চাননি তিনি।
আরও পড়ুনঃ স্ট্যালিন-হিটলারের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা! ২০২৮-এর মধ্যেই জার্মানিতে রুশ হামলা?
রাহুলের বাসভবনে বিরোধী ঐক্যের ছবি
এদিনের চা চক্রে বিরোধী শিবিরের শীর্ষনেতাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
-
কংগ্রেস: জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, কেসি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশ।
-
বাম ও আঞ্চলিক দলসমূহ: সিপিআই(এম)-এর এম এ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা, সিপিআই(এমএল)-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি, সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক এবং আইসা (AISA) নেত্রী নেহা বোরা।
বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, দেশে গণতন্ত্র বাঁচানোর লক্ষ্যে এই প্রথম দিল্লির বুকে সমস্ত বিরোধী দল ও একাধিক সামাজিক সংগঠন এক ছাতার তলায় এসে দাঁড়াল।
উৎসবের মরশুমে জনসংযোগ রক্ষা ও নতুন রণকৌশল
বর্তমানে দেশজুড়ে উৎসব ও নবরাত্রির মরশুম চলায় প্রতিদিন বড়সড় জমায়েত বা পথ অবরোধ করলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সমস্যা হতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই আন্দোলন কর্মসূচিতে কিছুটা নমনীয়তা এনে অভিনবত্ব আনার কথা ভাবছে বিরোধী শিবির।
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, আন্দোলনকারীদের এখন থেকে একটাই যৌথ প্ল্যাটফর্ম থাকবে, কোনো সমান্তরাল বা বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হবে না। বিক্ষোভ কর্মসূচির কৌশল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সকলে একজোট। লড়াই থামবে না, তবে আন্দোলন কীভাবে এগোবে সেখানে কিছুটা সাসপেন্স থাকুক।”
আরও পড়ুনঃ সতর্ক করলেন মার্কিন সাংবাদিক! পরবর্তী লক্ষ্য ভারত; ফ্রান্সে বিক্ষোভের পিছনে ইসলামপন্থী ও বামপন্থী নেটওয়ার্কভারত
সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা বার্তার রাজনীতি
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এতদিন বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেও এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাদের এই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে দেশের শীর্ষ আদালতেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমরা সুপ্রিম কোর্টকে পূর্ণ সম্মান করি।”
সব মিলিয়ে, উৎসবের দিনগুলি কাটার পরেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ইন্ডি জোট দেশজুড়ে কী ধরণের নতুন ও বড়সড় প্রতিবাদের রূপরেখা সামনে আনে, এখন সেটাই দেখার।


