বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
শুক্রবার পূর্বঘোষিত বিকেল পাঁচটার ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঠিক আগেই বাড়ি থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দ্বিতীয় দফায় পুলিশের হাতে আটক হলেন তিনি। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়েছে সিজেপি নেত্রী নেহা বোরাকেও। দলের দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এদিন দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে উত্তেজনা, সকালেই আশঙ্কা করেছিলেন; দীপকের বাড়িতে হঠাত্ পুলিশ, তেরঙা মার্চের আগেই গ্রেফতার
বাড়ি ঘিরে আটক ও পুলিশের সঙ্গে কথোপকথন
শুক্রবার বিকেলে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল সিজেপি প্রধানের। কিন্তু তার আগেই তাঁর দিল্লির আবাসন ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এর আগে একটি ভিডিওয় পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে অভিজিতের কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— *”আমার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন আপনারা?
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছিল, ১৬৩ ধারা অমান্য করে কনট প্লেসে জমায়েত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত ১১ জনকে জাতীয় পতাকা নিয়ে কনট প্লেসে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, তবে সেই ছাড়ের তালিকায় অভিজিৎ দীপকে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও ব্যবসায়ীদের আবেদন
সিজেপির এই কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে দিল্লির একটি ব্যবসায়ী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে শীর্ষ আদালত এই মুহূর্তে সরাসরি হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, *”আমরা আশা করছি শুভবুদ্ধির জয় হবে।”* ব্যবসায়ীদের জীবিকার অধিকার রক্ষার আর্জি সংক্রান্ত ওই মামলার পরবর্তী শুনানি দশেরার পর আগামী ২৬ বা ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ির দরজায় সমন সাঁটালো কোর্ট; বিপদ বাড়ছে ধ্রুব রাঠির
দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ও রাজনৈতিক সমীকরণ
দিল্লির পাশাপাশি শুক্রবার দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে:
মুম্বই: আজাদ ময়দানে রাঙ্কা-সৌরভদের মুক্তির দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন কর্মীরা।
চেন্নাই: রাজরথিনম স্টেডিয়ামে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর (SIR) বাতিলের দাবিতে বিশাল সমাবেশ শুরু হয়েছে। ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের বোন তথা সাংসদ কানিমোঝি ওই সমাবেশে উপস্থিত থেকে সিজেপির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
বাংলার প্রতিক্রিয়া: এই সমগ্র পরিস্থিতিতে ককরোচ নেতৃত্ব ও ধৃতদের পাশে দাঁড়ানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজধানী থেকে শুরু করে মুম্বই ও চেন্নাই—সব মিলিয়ে শুক্রবারের এই ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পারদ এখন চরমে।


