Sunday, 18 October, 2026
18 October
HomeকলকাতাChorbagan Stampede: চোরবাগানকাণ্ডে অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকে অভিযোগের আঙুল শুভেন্দুর

Chorbagan Stampede: চোরবাগানকাণ্ডে অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকে অভিযোগের আঙুল শুভেন্দুর

বর্তমানে সমস্ত আহতদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রবিবার সকালে মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের কাছ থেকে পুলিশের ভূমিকা এবং বিশেষ করে অস্থায়ী হোমগার্ডদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুতর তথ্য হাতে এসেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলেই এই অস্থায়ী হোমগার্ডদের নিয়োগ করা হয়েছিল এবং গত দুই বছর ধরে তাঁরা দায়িত্ব পালনের পর এবছরেও বহাল ছিলেন। কিন্তু চোরবাগানের ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক। শনিবার রাতে খোদ এক হোমগার্ডের সঙ্গে কথা বলার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই হোমগার্ড বাংলায় কথা বলতে চাননি এবং তিনি বাংলা ভাষা বুঝতে পারেন না বলেও দাবি করেছিলেন। এই ধরনের বহিরাগত বা অদক্ষ কর্মীরা কীভাবে জনবহুল পুজো মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে ছিলেন, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ওই সমস্ত অস্থায়ী হোমগার্ডদের একটি সম্পূর্ণ নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ  কলকাতা জুড়ে ক্ষোভের আগুন, নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন ও সরকার! জরুরি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

কীভাবে ঘটল বিপর্যয়? মুখ্যমন্ত্রীর প্রাথমিক মূল্যায়ন

চোরবাগানের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আসল কারণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সময় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর মূল রাস্তার কাছাকাছিই এই বিপর্যয় ঘটে। তাঁর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ভিড় সামলানোর জন্য যে বিশেষ দড়ি বা ব্যারিকেড ব্যবহার করা হচ্ছিল, কোনো কারণে তা হঠাৎ খুলে বা ছেড়ে যাওয়ার ফলেই হুড়োহুড়ি বেঁধে যায় এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

বড় অংকের ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির ঘোষণা

চোরবাগানের এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক বড় আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী:

মৃতের পরিবার: দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো প্রত্যেকটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে **২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য** এবং পরিবারের একজনকে **গ্রুপ ডি (Group D)পদে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্ত শেষে শোকার্ত পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

আহতদের পরিবার:  এই ঘটনায় আহত হওয়া অন্তত ২৫ জন ব্যক্তির পরিবারকে  ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। বর্তমানে সমস্ত আহতদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চোরবাগান বিপর্যয়ে প্রশাসনকে ধিক্কার জানালেন আরএসপি নেতা তথা ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পৌরপিতা দীপু সাহা

কড়া বার্তা ও আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পর থেকেই চোরবাগান সর্বজনীন পুজোর মণ্ডপ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পাঁচ জন উদ্যোক্তা সহ মোট ১০ থেকে ১৪ জনকে ইতিমধ্যে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষভাবে যাঁরা জড়িত রয়েছেন, তাঁদের কাউকেই বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য সমস্ত পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা প্রশাসনকে চরম সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন