বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
মহাসপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তীব্র প্রশাসনিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ শীর্ষমহল। উৎসবের বাকি দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন চরম শিখরে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ভবানী ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভবানী ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM), কলকাতা সহ সমস্ত কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার (CP), জেলা পুলিশ সুপার (SP) এবং রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের শীর্ষ সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসবে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং জননিরাপত্তা জোরদার করতে বেশ কিছু কড়া নির্দেশ জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী:
১. কড়া নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ: শহরের প্রতিটি বড় পুজো মণ্ডপ এবং অতিরিক্ত জনসমাগম হওয়া এলাকাগুলিতে পুলিশি নজরদারি ও সিসিটিভি সার্ভেল্যান্স বহুগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর হাই-অ্যালার্ট: যেকোনো জরুরি বা আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য ও জেলা স্তরের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এখানেও ভাইপো সংস্কৃতি! চোরবাগানে মৃত্যুমিছিলের দায় কার? উৎসবের ভিড়ে প্রাণ হারানোর জবাব চায় বাংলা
৩. নিবিড় সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ: পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে রিয়েল-টাইম যোগাযোগ বৃদ্ধি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
শহরের ৫টি বড় মণ্ডপে দর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ
চোরবাগান দুর্ঘটনার পরই নিরাপত্তার নিরিখে শহরের অন্তত পাঁচটি বড় ও নামজাদা পুজো মণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ ‘টালা প্রত্যয়’-এর মণ্ডপেও আপাতত দর্শক প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ‘চেতলা অগ্রণী’ এবং ‘আলিপুর সর্বজনীন’-এর মণ্ডপেও সুরক্ষার স্বার্থে আপাতত সাধারণ মানুষের প্রবেশ ‘না’ করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, চলতি বছরে পার্কস্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে প্রথমবারের জন্য আয়োজিত বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডার পুজোটির মণ্ডপেও আইনশৃঙ্খলা ও ভিড় সামলানোর স্বার্থে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহাসপ্তমীর ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই রাজ্য প্রশাসনের এই বেনজির ও নজিরবিহীন কড়াকড়ি বলে জানা যাচ্ছে।


