বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
উৎসবের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতা। বাঘাযতীন বাজারে আচমকা আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেল অন্তত ১৫টি দোকান। আগুনের তীব্রতায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লালবাজারের নেতাজিনগর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। প্রায় তিন ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টার পর দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুনঃ ফ্রান্সের একাধিক শহরে জারি হচ্ছে কারফিউ; বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
বাতাসার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত?
দমকল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টে নাগাদ বাঘাযতীন বাজারের ভিতরের একটি বাতাসা তৈরির দোকানে প্রথম আগুন দৃশ্যমান হয়। সংকীর্ণ বাজার এলাকা হওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আগুন পার্শ্ববর্তী একের পর এক দোকানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের লেলহান শিখা ও ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত পুলিশ ও দমকলে খবর দেন। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনা করে দফায় দফায় ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। বাজারের বাকি অংশে যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য চতুর্দিক ঘিরে ফেলে দমকলকর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগানে ‘ভুয়ো’ ঘোষণার মূলচক্রী! কোচবিহার থেকে গ্রেফতার যুবক
যান চলাচল ব্যাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
অগ্নিকাণ্ডের জেরে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ধমনী—গড়িয়া ও যাদবপুরের সংযোগকারী রাজা এস সি মল্লিক রোডে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। ট্রাফিক স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজপথে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
তবে স্বস্তির বিষয়, ভোরবেলায় ঘটনাটি ঘটায় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। খবর পেয়ে সকালে বাজারে এসে পৌঁছান বহু ব্যবসায়ী। পুজোর এই মরশুমে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা। খবর পেয়ে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে যান যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। কী কারণে বাতাসার দোকানে আগুন লাগল এবং ক্ষয়ক্ষতির মোট আর্থিক পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখতে লালবাজার ও দমকলের তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে।


