কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
শারদোৎসবের আনন্দ ফিকে হতে না হতেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের উত্তরবঙ্গের বাজারগুলিতে চরম মূল্যবৃদ্ধির ছবি সামনে এসেছে। পুজোর উপকরণ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় আনাজপাতি—সবকিছুর দামেই আগুন লেগেছে। সাধ থাকলেও সাধ্যের মধ্যে ব্যাগভরে বাজার করা অসম্ভব হয়ে ওঠায় বাধ্য হয়েই পুজো ও ভোগের আয়োজনে বড়সড় কাটছাঁট করতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে।
আরও পড়ুনঃ উৎসব মরসুমে অনলাইনে বিপুল চাহিদা বাড়ল কন্ডোমের; লোকলজ্জার বাধা কাটালো ১০ মিনিটের ডেলিভারি
পুজোর উপকরণের চড়া দাম
শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দরকষাকষির ছবি দেখা গিয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির বাজারগুলিতে পুজোর খুচরো উপকরণের দাম ছিল নাগালের বাইরে:
-
ধানের শিষ ও পঞ্চশস্য: দেবীর আসনের পাশের ঐতিহ্যবাহী ধানের শিষের জোড়া বা গোছা প্রতি দাম ঠেকেছে ৫ টাকায়। মাত্র ৫ গ্রাম ওজনের পঞ্চশস্যের প্যাকেট বিকোচ্ছে ২০ টাকায়।
-
মালা ও ঘর সাজানোর জিনিস: সরু কাগজের মালা এবং এক একটি চাঁদমালা বিকোচ্ছে ২৫ টাকা দামে। আলপনার ছোট্ট খড়িমাটির টুকরো ১০ টাকা এবং লক্ষ্মীর এক জোড়া পায়ের ছাপের স্টিকার ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
-
প্রদীপ ও ঘট: দুটি সলতেযুক্ত মাটির প্রদীপ ১০ টাকা, প্রতি জোড়া ঘট ২০ টাকা, ছোট আকৃতির ডাব ২৫ টাকা এবং একেকটি আখের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
সবজির বাজারে আগুন, থমকেছে খিচুড়ি ভোগের আয়োজন
পুজো মানেই মায়ের ভোগে খিচুড়ি ও লাভড়ার চল। কিন্তু সবজির আকাশছোঁয়া দামে সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতেই কালঘাম ছুটছে গৃহিণীদের। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে সবজির দর কার্যত অগ্নিগর্ভ:
-
কাঁচা লঙ্কা: প্রতি কেজি ১২০ টাকা।
-
বেগুন: মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
-
ফুলকপি: প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
-
পটল ও বরবটি: পটল ৬০-৮০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে।
-
অন্যান্য সবজি: শসা ৬০-৮০ টাকা কেজি। এছাড়া বাঁধাকপি, মূলো, গাজর, সিম ও ঝিঙের দামও সাধারণের আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে। বাজারে একমাত্র আলু ছাড়া সস্তায় আর কিছুই মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বে আসছে চরম বিপর্যয়; সমুদ্রের নীচের ইন্টারনেটের তার কেটে দেবে ইরান!
কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?
ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত আবহাওয়া ও জোগান ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন। শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটের বিক্রেতা নরেশ সরকার জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গে স্থানীয় স্তরে সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাইরে থেকে আনাজ আমদানি করতে হওয়ায় পরিবহন খরচ ও পাইকারি দাম অনেক বেশি পড়ছে। ফুলেশ্বরী বাজারের বিক্রেতা রতন সাহাও একই কথা জানিয়ে বলেন, মান্ডিগুলিতে সবজির জোগান কম থাকায় বাধ্য হয়ে চড়া দামে কিনে খুচরো বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মুদ্রাস্ফীতির জেরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার আনন্দেও এবার অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। সীমিত বাজেটের মধ্যেই কোনো রকমে নিয়ম রক্ষা করে মা লক্ষ্মীকে ঘরে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ।


