বিশেষ আইন ও বিচার বিষয়ক প্রতিবেদন:
দেশের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বুধবার এজলাসে চলাকালীন মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে চরম বচসা থেকে শুরু করে সরাসরি বিচারপতির বিচারকক্ষে ঢোকে তাণ্ডব চালাল আইনজীবীদের একাংশ। হামলাকারীদের হাতে এজলাসের বেঞ্চ, ফাইলপত্র এবং টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিচারবিভাগের সম্মান ও নিরাপত্তার ওপর এই ভয়াবহ হামলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশজুড়ে।
আরও পড়ুনঃ “এই সুন্দর স্বর্নালী সন্ধ্যায়” গ্রেফতার মমতার ‘তানসেন’ গায়ক ইন্দ্রনীল
ঠিক কী ঘটেছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টে?
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার হাইকোর্টের একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। সেই সময় এক সংবেদনশীল মামলার এজলাস পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশকে কেন্দ্র করে উপস্থিত আইনজীবীদের এক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
-
এজলাসে তাণ্ডব: বচসা মুহূর্তের মধ্যে হিংসাত্মক আকার নেয়। বেশ কয়েকজন আইনজীবী মারমুখী হয়ে বিচারপতির আসনের দিকে ধেয়ে যান। এজলাসের কম্পিউটার, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ডায়াস এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
-
বিপদ এড়াতে এজলাস ছাড়েন বিচারপতি: পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে নিরাপদে তাঁর চেম্বারে নিয়ে যান। হামলাকারীদের তাণ্ডবে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা; মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাচীনতম হাইকোর্টের ভেতরে ঢুকে কীভাবে আইনজীবীদের একাংশ এমন হিংসাত্মক তাণ্ডব চালাতে পারলেন, তা নিয়ে হাইকোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর কড়া প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) আনিয়ে আদালত চত্বরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রাজ্য হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং সুপ্রিম কোর্টও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিচারবিভাগের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং এজলাসে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত দোষী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলের তরফ থেকে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ও লাইসেন্স বাতিলসহ ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে খবর।


