কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সিকিমের মনোরম পাহাড়ি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা নিয়ে ফের একবার সোচ্চার হলেন স্থানীয় ট্যাক্সি ও গাড়িচালকেরা। পাহাড়ের রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যত্রতত্র প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার অভিযোগে চরম বিপাকে পড়লেন এক পর্যটক। প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে ওই পর্যটককে ধরে কড়া ভাষায় প্রশ্ন করেন এবং জবাবদিহি চান নেপালি চালকেরা।
আরও পড়ুনঃ জীবন ও পেশার চমৎকার ভারসাম্য! নববধূর সাজেই লোকো পাইলটের কেবিনে ফিরে পেশাগত দায়িত্ব পালন
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটে সিকিমের একটি অন্যতম পর্যটনবাহী জাতীয় সড়কের ধারে। জানা গিয়েছে, বিহার থেকে সিকিমে বেড়াতে আসা ওই পর্যটক নিজের গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাস্তার ধারেই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতে শুরু করেন। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা সিকিমের স্থানীয় সংস্কৃতি ও আইনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রাস্তার পাশে এমন অসৌজন্যমূলক ও অপরিচ্ছন্ন আচরণ দেখতে পেয়েই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পথচলতি একাধিক নেপালি ট্যাক্সিচালক। তাঁরা সাথে সাথেই নিজেদের গাড়ি থামিয়ে বিহার থেকে আসা ওই তরুণ পর্যটককে ঘিরে ধরেন এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কড়া প্রতিবাদ জানান।
নেপালি চালকদের ক্ষোভ ও প্রশ্ন
স্থানীয় নেপালি গাড়িচালকদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পর্যটক প্রতিবছর সিকিমে আসেন এই পাহাড়ি পরিবেশ ও স্বচ্ছতা উপভোগ করতে। কিন্তু কিছু কিছু পর্যটকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য পাহাড়ের পবিত্রতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিকিমে পাবলিক টয়লেট এবং নির্দিষ্ট থামার জায়গা থাকা সত্ত্বেও কেন রাস্তার ধারে এভাবে নোংরা পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে? নিজ রাজ্যে কি এরা এই ধরনের আচরণ করেন?” আচমকা স্থানীয় চালকদের এমন কড়া প্রশ্ন ও প্রতিবাদের মুখে পড়ে থতমতো খেয়ে যান বিহারের ওই যুবক এবং নিজের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হন।
আরও পড়ুনঃ “হারানো ভরসা ফেরাতে অপ্রিয় কাজ করতে হয়”; দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য
পরিবেশ রক্ষা ও সিকিম প্রশাসনের কড়াকড়ি
উল্লেখ্য, সিকিম ভারতের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও ‘গ্রিন স্টেট’ হিসেবে পরিচিত। যেখানে প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে শুরু করে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বা প্রকাশ্যে নোংরা করার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি নিয়ম ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ও খবর চাউর হতেই স্থানীয় পর্যটন মহল ও নেটিজেনরা গাড়িচালকদের এই সচেতনতামূলক পদক্ষপের প্রশংসা করেছেন। একই সাথে সিকিমে আসার আগে পর্যটকদের পাহাড়ি পরিচ্ছন্নতা ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলার কড়া পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।


