বিশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদন:
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab) তীব্র রূপ নিয়ে উপকূলের দিকে ক্রমশ এগিয়ে আসছে। এর জেরে বঙ্গোপসাগরের সার্বিক পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে দক্ষিণ ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে। তবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জেলাতেও মঙ্গলবার থেকেই আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ও দুর্যোগের আবহ তৈরি হতে চলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুসরণে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বজুড়ে ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে মাইক্রোসফট
দিনওয়ারি আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য দুর্যোগ:
-
আজ, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর): বিকেলের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আংশিক মেঘলা আকাশ এবং সাময়িক হালকা বৃষ্টির সূচনা হতে পারে। উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে।
-
আগামীকাল, বুধবার (২৮ অক্টোবর): ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ অঞ্চলেই দফায় দফায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যাবে। কয়েক জোড়া জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি স্থানবিশেষে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এই সময়ে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অংশে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
-
পরশু, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর): দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির পরিধি বৃদ্ধি পাবে। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেবে।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সময়সীমা
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে ঝড়টির তীব্রতা কমে আসা এবং স্থলভাগ অতিক্রম করার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে আবহাওয়া পুনরায় স্বাভাবিক ও শুষ্ক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
ততদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সরকারি আবহাওয়া দপ্তর এবং স্থানীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সমস্ত জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবী ও উপকূল এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


