দক্ষিণ কলকাতার বেহালার সরশুনায় নাবালিকাকে চুম্বনের মতো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত কাণ্ড ঘটেছিল, এবার সেই মামলায় চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ করল পুলিশ। প্রেমিক তরুণ, তাঁর বন্ধু এবং খোদ তরুণের বাবাকে যারা বন্দুক উঁচিয়ে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করেছিল, সেই মূল অভিযুক্তদেরই এবার খালি গায়ে, হাফপ্যান্ট ও কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটালো সরশুনা থানার পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল গত রবিবার?
গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় বেহালার সরশুনা থানার ক্ষুদিরামপল্লী এলাকায় ১৮ বছরের এক তরুণ তাঁর ১৩ বছরের পরিচিত কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। দু’জনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন প্রেমিকার পরিবারের লোকজন।
অভিযোগ ওঠে, এরপর ওই তরুণ এবং তাঁর এক বন্ধুকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তরুণের বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও রেয়াত করা হয়নি। উল্টে তিনজনের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁদের পরনের সমস্ত পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটতে বাধ্য করা হয় তরুণ, তাঁর বন্ধু এবং ওই তরুণের বাবাকেও। এমনকি সেই জঘন্য ঘটনার ভিডিও পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়।
জনতার ক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ
ভরা রাস্তায় তিনজন পুরুষকে এভাবে নগ্ন অবস্থায় হাঁটতে দেখে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় মানুষের একাংশ চড়াও হন ওই কিশোরীর বাড়িতে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিশোরীর বাবা ও অন্যান্য অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলেও, উত্তেজিত জনতা নাবালিকার মামা রাহুল বর্মনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তাঁকে ব্যাপক মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে। ঘটনার তদন্তে নেমে একে একে গ্রেফতার করা হয় কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মা রিঙ্কু সরকার এবং মামা রাহুল বর্মনকে।
আরও পড়ুনঃ “হারানো ভরসা ফেরাতে অপ্রিয় কাজ করতে হয়”; দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য
আইনজীবীদের কড়া বার্তা ও পুলিশি অভিযান
প্রাথমিকভাবে নিগৃহীতদের ওপর যে চরম অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার উপযুক্ত জবাব এবং অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এবার কড়া দাওয়াই দিল পুলিশ। মঙ্গলবার অভিযুক্তদের অপরাধের পুনর্নির্মাণ এবং তদন্তের স্বার্থে যখন ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁদের খালি গায়ে, পরণে কেবল হাফপ্যান্ট এবং কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকার রাস্তায় ঘোরানো হয়।
আইন অমান্য করে যারা প্রকাশ্যে এমন বর্বরতা চালাতে পারে, পুলিশি জেরার মুখে ও জনসমক্ষে সেই অভিযুক্তদেরই এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেখে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুরো ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া কঠোর হাতে সম্পন্ন করা হবে।


