Tuesday, 27 October, 2026
27 October
Homeদক্ষিণবঙ্গGaighata Encounter: “হারানো ভরসা ফেরাতে অপ্রিয় কাজ করতে হয়”; দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক...

Gaighata Encounter: “হারানো ভরসা ফেরাতে অপ্রিয় কাজ করতে হয়”; দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে নারী সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থার যে বার্তা দেওয়া হচ্ছিল, দিলীপ ঘোষের এই বয়ান সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করে দিল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশি এনকাউন্টারে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় অব্যাহত। আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে এবার এই এনকাউন্টার প্রসঙ্গে অত্যন্ত কড়া ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করতেই পুলিশকে এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

আরও পড়ুনঃ বারুইপুরের পর ৩ মাসের মাথায় এবার গাইঘাটাতেও এনকাউন্টার, মৃত্যু ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ

গাইঘাটার সেই চাঞ্চল্যকর এনকাউন্টার

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিবস্ত্র ও ক্ষতবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাবালিকাকে প্রথমে চরম নৃশংসভাবে ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ তোলে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতের এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে।

মঙ্গলবার ভোররাতে ধৃতকে নিয়ে অকুস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করতে যায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার সময় প্রহ্লাদ এক পুলিশ আধিকারিকের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে জখম হয় অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঠিক কয়েকমাস আগেই বারুইপুরেও এক নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন মামলায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

আরও পড়ুনঃ  জীবন ও পেশার চমৎকার ভারসাম্য! নববধূর সাজেই লোকো পাইলটের কেবিনে ফিরে পেশাগত দায়িত্ব পালন

“হারানো ভরসা ফেরাতে অপ্রিয় কাজ করতে হয়”: মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

গাইঘাটার এই এনকাউন্টার এবং রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি পুলিশের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন:

“পুলিশের ওপর থেকে মানুষ ভরসা রাখতেই ভুলে গিয়েছিল। তাই পুলিশের প্রতি সেই হারানো ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে এমন কিছু কড়া পদক্ষেপ করতেই হবে এবং সাধারণ মানুষকে দ্রুত ন্যায় দিতে হবে।”

আইনকানুনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করে মন্ত্রী আরও সংযোজন করেন:

“আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে পুলিশকে মাঝে মাঝে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হয়। কারণ বাংলায় বহু বছর ধরে সঠিক আইন-কানুন ও শাসনব্যবস্থা বজায় ছিল না। যদি সমাজে আইন-কানুনের সঠিক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি ও সতর্কতা তৈরি করতে হবে। এমন এক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যাতে এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস ভবিষ্যতে কেউ না পায়। আর কেউ এই ধরনের অপরাধ করলে তার যা পরিণতি হবে, তা যেন গোটা সমাজের কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হয়ে থাকে।”

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে নারী সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থার যে বার্তা দেওয়া হচ্ছিল, দিলীপ ঘোষের এই বয়ান সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। তবে কড়া পুলিশি পদক্ষেপ নাকি আইন মেনে বিচার প্রক্রিয়া—এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর তরজা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন