Monday, 26 October, 2026
26 October
Homeদক্ষিণবঙ্গIndian Railways: হারিয়ে যাওয়া মার্টিন রেল! বাগুইআটির বুকে আজও বেঁচে আছে ছোটগাড়ির...

Indian Railways: হারিয়ে যাওয়া মার্টিন রেল! বাগুইআটির বুকে আজও বেঁচে আছে ছোটগাড়ির স্মৃতি

আজ বাগুইআটির পরিচয় সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পুরনো স্টেশনের চত্বর গ্রাস করেছে আধুনিক শহুরে কমার্শিয়াল জগত ও বহুতল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ ঐতিহ্য ও ইতিহাস প্রতিবেদন:

আজকের ব্যস্ততম বাগুইআটি, গাড়ির হর্ন, ভিআইপি রোডের অন্তহীন যানজট আর কংক্রিটের জঙ্গল দেখে একসময়ের নিস্তরঙ্গ ও অন্যরকম এই এলাকার ছবিটা কল্পনা করা আজ প্রায় অসম্ভব। অথচ শহরের এই ব্যস্ত চত্বরেই এককালে নিয়মিত হুইসল বাজিয়ে ছুটে চলত একটি ছোট্ট রেলগাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে যা পরিচিত ছিল ‘মার্টিন গাড়ি’ বা ‘ছোটগাড়ি’ নামে। কলকাতা থেকে বসিরহাট ও হাসনাবাদের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সেই রেলপথ আজ ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেলেও, তার বহু স্মৃতি এখনও জড়িয়ে রয়েছে বাগুইআটির পরতে পরতে।

আরও পড়ুনঃ  শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ‘অর্ণব’; অন্ধ্র ও ওড়িশায় চরম সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

বাগুই পরিবারের দান করা জমি ও স্টেশনের ইতিহাস

বর্তমান ভিআইপি রোডের বাগুইআটি ক্রসিংয়ের ঠিক কাছাকাছি ছিল সেই আমলের ঐতিহাসিক বাগুইআটি স্টেশন। স্থানীয় লোককথা অনুসারে, এলাকার একসময়ের প্রভাবশালী দুগ্ধ ব্যবসায়ী ‘বাগুই’ পরিবারের দান করা জমির উপরেই গড়ে উঠেছিল এই স্টেশনটি। অনেকের মতে, সেই পরিবারের নাম থেকেই কালক্রমে এই এলাকার নাম হয়েছে ‘বাগুইআটি’, যদিও এর সঠিক ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে।

তবে এই রেলযাত্রা আজকের আধুনিক গতির সঙ্গে তুলনাই চলে না। ছোট লাইনের এই ট্রেনটি চলত বেশ ধীরেসুস্থে। পথে প্রয়োজনমতো যাত্রী ওঠানামার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি কাজেও ট্রেন থামত। বিশেষ করে বাগুইআটি স্টেশনের গুরুত্ব ছিল অন্য কারণে—সেকালের স্টিম ইঞ্জিনের জন্য জল ভরার কাজে ট্রেনটি এখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকত। যে পুকুর থেকে ইঞ্জিনের সেই জল সংগ্রহ করা হতো, সময়ের পালাবদলে আধুনিক শহরের বিস্তার ঘটলেও সেটি আজও স্থানীয়দের কাছে ‘রেল পুকুর’ নামে পরিচিত। একটি নামের আড়ালে আজও বেঁচে রয়েছে এক সুদীর্ঘ রেলযুগের নীরব সাক্ষী।

শ্যামবাজার থেকে হাসনাবাদ: দীর্ঘ ছিল মার্টিন রেলের পথ

বিশ শতকের গোড়ার দিকে সূচনা হওয়া এই মার্টিন রেলের যাত্রাপথ ছিল বেশ দীর্ঘ ও বিস্তৃত। কলকাতার শ্যামবাজার এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি পাতিপুকুর, বাগুইআটি, হাটিয়ারা, রাজারহাট, হাড়োয়া, খড়িবাড়ি ও বসিরহাটের মতো বিভিন্ন অঞ্চল পেরিয়ে সুদূর হাসনাবাদ পর্যন্ত যাতায়াত করত। তবে এই ঐতিহাসিক রেলপথের মূল কলকাতা টার্মিনাল ছিল বেলগাছিয়া ট্রাম ডিপোর ঠিক উল্টোদিকে। সড়ক যোগাযোগের সুব্যবস্থা না থাকায় সেই যুগে শহর ও শহরতলির মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান নাড়ীস্পন্দন ছিল এই ছোটগাড়ি।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় বাজারে চিনা স্মার্টফোনের আধিপত্যে বড়সড় ধস; জায়গা দখল করছে দেশীয় ব্র্যান্ড

লোকসানের কোপে ইতি এবং বাংলা সাহিত্যে মার্টিন রেলের ছাপ

প্রায় পাঁচ দশক ধরে সাফল্যের সঙ্গে চলার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এই রেলপথের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ। বাড়তে থাকা লোকসানের ধাক্কা আর সামলানো যায়নি। অবশেষে ১৯৫৫ সালের ১ জুলাই চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় শ্যামবাজার-হাসনাবাদ মার্টিন রেলপথের পরিষেবা। সেদিন থেকেই বাগুইআটির পথঘাট চিরতরে হারিয়ে ফেলে সেই পরিচিত হুইসল ও ছোটগাড়ির চাকার শব্দ।

তবে মার্টিন রেলের এই স্মৃতি কেবল ইতিহাসের কোণায় বা বয়স্কদের স্মৃতিকথায় আটকে নেই, তার দারুণ প্রভাব রয়েছে বাংলা সাহিত্য জগতেও। সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর কিশোর চরিত্র ‘টেনিদা’-র নানা কাণ্ডকারখানার মধ্যে দিয়ে সেই সময়ের পুরনো কলকাতা ও শহরতলির জীবন্ত পরিবেশ ফুটে উঠেছে। ‘টেনিদার বনভোজন’-এর মতো ক্লাসিক গল্পে মার্টিন রেলে চড়ে বেড়ানোর উল্লেখ আজও পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেকালের সেই নস্ট্যালজিক দিনে।

আজ বাগুইআটির পরিচয় সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পুরনো স্টেশনের চত্বর গ্রাস করেছে আধুনিক শহুরে কমার্শিয়াল জগত ও বহুতল। কিন্তু ব্যস্ততার ভিড়ে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ‘রেল পুকুর’-এর মতো নামগুলি মনে করিয়ে দেয়—এই এলাকার ইতিহাস কেবল ইট-কাঠ-পাথরের নয়, এর শেকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একসময়ের এক ছোট রেলগাড়ির গল্প, যা এক সুতোয় বেঁধেছিল সেকালের যান্ত্রিক ও মানবিক জীবনকে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন