বিশেষ আবহাওয়া ও বিপর্যয় মোকাবিলা প্রতিবেদন:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি দ্রুত গতিতে শক্তি সঞ্চয় করে শেষপর্যন্ত রূপ নিল বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ (Cyclone Arnab)। উপগ্রহ চিত্রে চোখ (Eye of the Storm) স্পষ্ট ভেসে উঠতেই ভারতের পূর্ব উপকূলজুড়ে জারি করা হয়েছে হাই-অ্যালার্ট। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রায় ৯০ কিমি/ঘণ্টা এবং কেন্দ্রীয় বায়ুদাপ ৯৯৭ মিলিবার। পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ (Very Severe Cyclonic Storm) পরিণত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে নিম্নচাপ, জারি রেড অ্যালার্ট; সাগরে জন্মাল ‘অর্ণব’
ল্যান্ডফলের গতিপথ ও ওড়িশা-অন্ধ্র উপকূলে চরম আতঙ্ক
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি প্রাথমিক গতিপথ বজায় রেখে দ্রুত উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২৮ অক্টোবর (বুধবার) সকালে এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও বাপাটলার মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে, যা দমকা হাওয়ার আকারে সর্বোচ্চ ১৪০ থেকে ১৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কাবাক্য শোনানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল জেলায় (যেমন ગঞ্জাম, গজপতি) চরম সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। উপকূলবর্তী নিম্নাঞ্চল থেকে মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বহু জেলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে দুর্যোগের মেঘ: টানা তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে না পড়লেও, এর বিশাল বলয়ের পরোক্ষ প্রভাবে বাদ যাচ্ছে না রাজ্যও। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী:
-
বৃষ্টির সূচি: ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলবে।
-
ভারী বৃষ্টি: ২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং ঝাড়গ্রামে দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
উপকূলীয় ঝোড়ো হাওয়া: সমুদ্র উত্তাল থাকার পাশাপাশি উপকূলের জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসন থেকে দীঘা, মন্দারমণি এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে থাকা পর্যটকদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগামী তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নবান্নের কন্ট্রোল রুম।


