কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) রেল স্টেশনে মাদক পাচারের এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ছক বানচাল করল পুলিশ। ট্রেনের এসি কামরায় সাবানের কেসের ভিতরে অত্যন্ত গোপনে লুকিয়ে রাখা প্রায় ১০০ গ্রাম ব্রাউন সুগারসহ গ্রেফতার করা হলো এক মহিলা পাচারকারীকে। ধৃত মহিলার নাম রেহানা খাতুন। শিলিগুড়ি জিআরপির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং এনজেপি জিআরপির সাদা পোশাকের পুলিশের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনের আগে তেল আভিভে পরিমাণু বিস্ফোরণ! হুমকির মুখে ইজরায়েল
স্টেশনে গোপন নজরদারি ও অভিযান
জিআরপি ও এসওজি সূত্রে জানা গিয়েছে, উৎসবের মরসুমে ট্রেনে মাদক পাচারের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় এনজেপি স্টেশন ও বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনে সাদা পোশাকের পুলিশ তল্লাশি ও কড়া নজরদারি চালাচ্ছিল। সেই সময়ই গোপন সূত্রে খবর আসে যে, এসি কোচে সফররত এক মহিলা যাত্রী বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে পাচারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তথ্য নিশ্চিত হতেই এনজেপি স্টেশনে ট্রেনটি এসে পৌঁছালে এসওজি ও এনজেপি জিআরপির যৌথ দল দ্রুত এসি কামরায় অভিযান চালায়। সংশ্লিষ্ট কামরায় থাকা সন্দেহভাজন মহিলা রেহানা খাতুনকে আটক করে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও জিনিসপত্রে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা।
সাবানের কেসে লুকোনো ব্রাউন সুগার
প্রাথমিক তল্লাশিতে পুলিশের চোখ এড়াতে বিশেষ চালাকির আশ্রয় নিয়েছিল ওই মহিলা। নিজের ব্যাগের ভিতর রাখা কয়েকটি প্রসাধন সামগ্রীর সঙ্গে রাখা সাবানের কেসগুলি (Soap Cases) খুলতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় তদন্তকারীদের। দেখা যায়, সাবানের বদলে প্লাস্টিকের মোড়কে অতি সাবধানে লুকিয়ে রাখা রয়েছে নিষিদ্ধ মাদক ব্রাউন সুগার।
ওজন করে উদ্ধার হওয়া ব্রাউন সুগারের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০০ গ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকেই সমস্ত মাদক বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি রেহানা খাতুনকে গ্রেফতার করে জিআরপি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ জেন জি ম্যাজিক ইউরোপেও; সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্টের গদি উল্টে দিল ছাত্ররা
র্যাকেটের খোঁজে তদন্ত
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতেই এই অভিনব উপায়ে সাবানের কেস ব্যবহার করে ট্রেনপথে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এই পাচার চক্রের শিকড় কত দূর বিস্তৃত, এই বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—তা খতিয়ে দেখতে ধৃত রেহানা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এসওজি ও জিআরপির আধিকারিকরা। ধৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য বিরোধী আইনে (NDPS Act) নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।


