Monday, 26 October, 2026
26 October
Homeদক্ষিণবঙ্গKaustav Bagchi: ‘বিজেপি দফতরের সামনে গায়ে আগুন দেব’! অর্জুনকে নিশানা করে আচমকা...

Kaustav Bagchi: ‘বিজেপি দফতরের সামনে গায়ে আগুন দেব’! অর্জুনকে নিশানা করে আচমকা হুঁশিয়ারি বিধায়ক কৌস্তুভের

রাজ্য বিজেপি ও ব্যারাকপুর রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:

ছয় বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল খুন হওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক মহল। বর্তমান রাজ্য রাজনীতি ও শাসকদলের অন্দরে জলঘোলা শুরু হয়েছে যখন খোদ নিজের দলেরই এক বিধায়ক—কৌস্তুভ বাগচী—দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বর্তমান মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের। আর এই পুরো ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার মতো চরম হুঙ্কার দিয়েছেন কৌস্তুভ।

আরও পড়ুনঃ  উত্তরপ্রদেশে রাহুল গান্ধীর কনভয়ে দুর্ঘটনা, আহত বহু

মণীশ শুক্ল খুন ও কৌস্তুভ বাগচীর আইনি উদ্যোগ

২০২০ সালের অক্টোবর মাসে টিটাগড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন দাপুটে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্ল। সেই আলোচিত খুনের মামলা নিয়ে হঠাৎ করেই নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, সিআইডি-র ডিজি এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।

কিন্তু কৌস্তুভের মূল ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জায়গাটি হল অন্য জায়গায়। তাঁর অভিযোগ, মণীশ শুক্লর খুনের ঘটনায় যাঁদের নাম অতীতে জোরালোভাবে জড়িয়েছিল, তাঁদের অনেকেই বর্তমানে বিজেপির ছাতছায়ায় ভিড়ছেন এবং দলের কিছু নেতার সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত ওঠাবসা রয়েছে।

অর্জুন সিং ও প্রাক্তন পুরপ্রধানদের বিরুদ্ধে তোপ

সোমবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রকাশ্যে রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা তথা মন্ত্রী অর্জুন সিংহকে নিশানা করেন কৌস্তুভ। গণমাধ্যমের সামনে বেশ কিছু ছবিও পেশ করেন তিনি, যেখানে মণীশ শুক্লর নামজাদা অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে অর্জুন সিংহের মতো নেতাদের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

অর্জুন সিংয়ের নাম সরাসরি উচ্চারণ করে কৌস্তুভ বলেন:

“অর্জুন সিংহের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো রাগ নেই। তিনি দলের বড় নেতা ও অভিভাবক। কিন্তু মণীশ শুক্লর হত্যাকারীদের সঙ্গে আপনাদের এই ছবিগুলি দেখতে কি আদৌ ভালো লাগে?”

একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন যে, অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত থাকা তথা দলের বিতর্কিত প্রাক্তন দুই পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং প্রশান্ত চৌধুরীকে কোনো অবস্থাতেই বিজেপিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে কৌস্তুভ চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, এর আগেও রাজনৈতিক কারণে তিনি মাথা মুণ্ডন করার মতো প্রতিবাদ করেছিলেন; আর প্রয়োজনে দলের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করতেও পিছপা হবেন না তিনি! তবে এই ব্যাপক বিতর্কের পরেও সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রী অর্জুন সিংহ অবশ্য ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় বাজারে চিনা স্মার্টফোনের আধিপত্যে বড়সড় ধস; জায়গা দখল করছে দেশীয় ব্র্যান্ড

নিহত নেতার বাবার তীব্র প্রতিক্রিয়া

এদিকে কৌস্তুভ বাগচীর এই হঠাৎ সরব হওয়া এবং মণীশ শুক্লর মামলাকে সামনে নিয়ে আসার বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি খোদ নিহত নেতার পরিবার। মণীশ শুক্লর বাবা চন্দ্রমণি শুক্ল উল্টো কৌস্তুভকেই একহাত নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

চন্দ্রমণি শুক্লর দাবি, মামলা চলাকালীন ব্যারাকপুর বা আশপাশের অঞ্চলে কোনো আইনজীবী মণীশের পক্ষে দাঁড়াতে সাহস না পাওয়ায় তাঁরা সাহায্যপ্রার্থী হয়ে কৌস্তুভ বাগচীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সে সময় কৌস্তুভ মামলা লড়তে প্রথমে সম্মতি জানালেও পরবর্তীতে নিজের প্রাণের আশঙ্কার কথা বলে সেই মামলা লড়তে একপ্রকার অস্বীকারই করেছিলেন। চন্দ্রমণির অভিযোগ, বর্তমানে মৃতপুত্রের নাম ও এই আবেগপূর্ণ ইস্যুকে হাতিয়ার করে ব্যারাকপুরের মাটিতে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত ও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি।

ছয় বছর আগের এক খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে নিজ দলের বিধায়কের চরম হুঁশিয়ারি এবং নিহত নেতার পরিবারের এমন অভিযোগে এখন রাজ্য বিজেপি ও ব্যারাকপুর রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন