তারাপীঠের হোটেলগুলিতে যেন অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। গত অগস্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক স্মৃতির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বীরভূমের এই বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্রের এক অভিজাত বেসরকারি লজে আগুন লাগার ঘটনায় বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার ভোরে রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যাওয়ার পথে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘গডস কাউন্টি’ (God’s County) লজে এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দমকল ও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বারুইপুরের পর ৩ মাসের মাথায় এবার গাইঘাটাতেও এনকাউন্টার, মৃত্যু ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ
ভোরের অগ্নিকাণ্ড ও দমকলের তৎপরতা
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ ওই বিলাসবহুল লজের দোতলার একটি ঘর থেকে হঠাৎই আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র লজ ও তার আশেপাশের চত্বর ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
খবর পাওয়া মাত্রই দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। দমকলকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এবং দ্রুত পদক্ষেপে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। লজের অন্দরে সেসময় যে সমস্ত আবাসিক বা পর্যটকেরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ঘটনায় কোনো আবাসিক বা কর্মীর হতাহতের খবর নেই।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বজুড়ে ৬০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে মাইক্রোসফট
আগুন লাগার কারণ ও বিগত অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি
প্রাথমিক তদন্তের পর দমকল কর্মীদের অনুমান, লজের দ্বিতীয় তলার ২০১ নম্বর ঘরের বিছানা থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। বৈদ্যুতিন শর্ট সার্কিট (Short Circuit) নাকি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক ও তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ওই বিলাসবহুল লজটিতে পর্যাপ্ত ও যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (Fire Safety Measures) বজায় ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন দমকল আধিকারিকেরা।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের আগস্ট মাসেই তারাপীঠের একটি অন্য হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে ৯ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই রামপুরহাটের একটি হোটেলের রান্নাঘরেও আগুন লাগে। সেই সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে বেশ কয়েকটি অনিয়ম থাকা হোটেল বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তার ঠিক মাস দুয়েকের মাথায় ফের তারাপীঠের মতো জনবহুল তীর্থক্ষেত্রের একটি বেসরকারি লজে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মনে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বারবার হোটেলগুলির ফায়ার সেফটি অডিট বা সুরক্ষা যাচাইকরণের কথা বলা হলেও এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন ওয়াকিবহাল মহল।


