বিশেষ জাতীয় ও অর্থনৈতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
উৎসবের মরশুমে রাজধানীর বুকে রাজনৈতিক ডামাডোলে চরম অর্থনৈতিক ধাক্কা। আশঙ্কা করা হয়েছিল, ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা মার খেতে পারে। কিন্তু রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশের পর বাস্তবে ক্ষতির যে হিসাব সামনে এল, তা সমস্ত অনুমানকে ছাড়িয়ে গেল। ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)-র দাবি অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে রাজধানী দিল্লিতে এক দিনে মোট ১১ হাজার ১ কোটি টাকার বিপুল ক্ষতি হয়েছে! উৎসবের বাজারে এমন লোকসানে মাথায় হাত বিক্রেতাদের।
আরও পড়ুনঃ জনসুনামি না হলেও ভালোবাসার কমতি নেই; জন্মদিনের ভোররাতে ভক্তদের উড়ন্ত চুমু শাহরুখের
১. ধনতেরাস ও দীপাবলির মুখে লক্ষাধিক দোকান বন্ধ
দীপাবলি ও ধনতেরাসের ঠিক আগের এই রবিবারের বাজারকে বছরের অন্যতম লাভজনক সময় হিসেবে দেখেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিরোধীদের এই সমাবেশ সেই আশার ওপর জল ঢেলে দিয়েছে।
-
আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ: সিটিআই (CTI)-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন, রামলীলা ময়দানের আশপাশের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা কাশ্মীরি গেট, কনট প্লেস, সদর বাজার এবং চাঁদনি চকের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির প্রায় ৩ লক্ষ দোকানের মধ্যে অন্তত আড়াই লক্ষ দোকান রবিবারে বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।
-
৮০ শতাংশ ব্যবসা থমকে: দিল্লি জুড়ে যেখানে ধনতেরাস ও দীপাবলির প্রাক্কালে সোনা-রুপো, ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি, জামাকাপড় ও মিষ্টি মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়, সেখানে এই রবিবারের সমাবেশে ৮০ শতাংশ বেচাকেনা লাটে উঠেছে।
২. সমাবেশে বারণ সত্ত্বেও কর্ণপাত করেনি ‘ইন্ডি’ জোট
১ নভেম্বরের এই সমাবেশের আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
-
রাহুল গান্ধীকে চিঠি: সমাবেশের আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছিলেন সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল। ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত ও ২০ হাজার বাসের ভিড়ের কারণে বাজারের অর্থনীতির কী বিপর্যয় হতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল।
-
সমাবেশ পেছানোর আর্জি: ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল, দীপাবলির বাজার ধরার সুযোগ দিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি যেন অন্তত ১০ নভেম্বরের পরে করা হয়। কিন্তু সেই আবেদনে কোনো কর্ণপাত করেনি ‘ইন্ডি’ জোট।
আরও পড়ুনঃ তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত মুরাসু; ২৫ কিমি বেগে অন্ধ্রের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে
৩. ক্ষতি মেটাবে কে? প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের, পাল্টা তোপ রাহুলের
এক দিনে ১১,০০০ কোটি টাকার ওপরে এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় কার—তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক।
-
দিনমজুর ও হকারদের দুর্দশা: সিটিআই-এর দাবি, এই অচলাবস্থার জেরে প্রায় ২ কোটি দিনমজুর ও হকার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি কে পূরণ করবে? কর্মসূচির আয়োজকরা কি এর কোনো দায়িত্ব নেবেন?
-
রাহুলের পাল্টা যুক্তি: অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের এই ক্ষোভের প্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধীর সাফাই— দোকানপাট ও ব্যবসা বন্ধ রাখার জন্য বিরোধী জোট দায়ী নয়। জোর করে বাজার ও দোকান বন্ধ করে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে প্রশাসন তথা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হাত।
উৎসবের মরশুমে রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন আর ব্যবসায়িক স্বার্থের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত দিল্লির সাধারণ বিক্রেতা ও দিনমজুরদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


