বিশেষ আবহাওয়া ও দুর্যোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন:
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়া আরও এক নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ (Murasu) নিয়ে তীব্র সতর্কতা জারি করল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)। অতি তীব্র আকার ধারণ করে অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বিপুল ক্ষতিসাধন করার পর, এবার একই রাজ্যের দিকে ধেয়ে আসছে ‘মুরাসু’।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) মধ্যরাতেই অন্ধ্রের নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলভাগ দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে এই তীব্র ঘূর্ণিঝড়।
আরও পড়ুনঃ চারপাশে রণক্ষেত্র, ঢাকার মিরপুর-১০-এর সংঘর্ষের মাঝে এক বাঙালি মায়ের অদম্য সংগ্রামের ছবি
১. ‘মুরাসু’-র বর্তমান অবস্থান ও অভিমুখ
পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে।
-
উপকূল থেকে দূরত্ব: সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টি চেন্নাই থেকে ২০০ কিমি পূর্ব-উত্তর পূর্ব, অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে ২১০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব, মছিলিপত্তনম থেকে ২৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২৬০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল।
-
ল্যান্ডফলের সময় ও গতিবেগ: সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলতে পারে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ‘মুরাসু’-র মূল গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘হাতে আর সময় নেই; মে ডে, মে ডে’; গগনভেদী আর্তনাদ! মুহূর্তেই ৩৫ ফুট উচ্চতা থেকে রাস্তায় আছড়ে পড়ল বিমান
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র প্রত্যক্ষ কোনো প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে পরোক্ষভাবে আবহাওয়া পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর:
-
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা: মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে মাঝারি এক-দু’ পশলা বৃষ্টি হতে পারে।
-
শুষ্ক আবহাওয়া ও পারদ পতন: বুধবার থেকে রাজ্যজুড়ে আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক হয়ে যাবে। আগামী তিন দিন তাপমাত্রার তেমন বড় পরিবর্তন না হলেও, তার পর থেকে রাজ্যজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো কমতে পারে, যা রাজ্যে শীতের আমেজ ফিরিয়ে আনবে।
-
কলকাতার পরিস্থিতি: সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের থেকে ২.৩ ডিগ্রি বেশি)। রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই নেল্লোর, কাভালি, ওঙ্গোল ও মছিলিপত্তনম সহ একাধিক উপকূলীয় এলাকায় এনডিআরএফ (NDRF) ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


