Friday, 6 November, 2026
6 November
Homeআন্তর্জাতিক নিউজGoogle: স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য AI টুলস বন্ধ করল গুগল

Google: স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য AI টুলস বন্ধ করল গুগল

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) টুলের অপব্যবহার ও শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্কের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল (Google)। কে-১২ (কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে এআই টুলস বাই-ডিফল্ট (Default) বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তারা। মঙ্গলবার নিজস্ব অফিসিয়াল ব্লগে গুগল নিশ্চিত করেছে যে, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ ম্যানুয়ালি অনুমতি দিলেই কেবল শিক্ষার্থীরা এই এআই সেবাগুলি ব্যবহার করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ যোগাযোগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা! জাপান থেকে ভারতে পৌঁছাল প্রথম বুলেট ট্রেন

১. গুগলের নতুন নীতির মূল বিষয় ও পরিষেবা

  • প্রভাবিত ফিচারসমূহ: গুগলের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে কে-১২ শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে গুগলের শক্তিশালী চ্যাটবট জেমিনি (Gemini), জেমিনি নোটবুক, জেমিনি ইন ক্লাসরুম এবং গুগলের এআই-ভিত্তিক ‘এআই ওভারভিউ’ (AI Overview) বা এআই সার্চ ফিচারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে।

  • বিশ্বব্যাপী কার্যকারিতা: প্রাথমিক পর্যায়ে এই নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চালু হলেও পর্যায়ক্রমে তা বিশ্বজুড়ে কার্যকর করা হবে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করছে।

২. মার্কিন রাজনীতিক ও প্রশাসনের চাপ

স্কুল ডিভাইসে এআই ফিচারগুলো কেন বাই-ডিফল্ট সক্রিয় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে গত মাসে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং জশ হউলি গুগলের কাছে জবাবদিহি চান। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ডিভাইসে এআই ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও নিউ ইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস (NYCPS) ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু এআই চ্যাটবট বন্ধ রেখেছে।

৩. দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া ও জটিলতা

গুগল দাবি করেছে যে, শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে পড়াশোনায় ফাঁকি বা শর্টকাট নিতে পারে বলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে উদ্বেগ ছিল, তা কাটাতেই স্কুলগুলোকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপে কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিয়েছে:

  • গুগল সার্চ ও এআই-এর মেলবন্ধন: গুগলের শিক্ষা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস (The New York Times-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে) জানান, বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গভীরভাবে যুক্ত। ফলে কোনো স্কুল যদি এআই ফিচার বন্ধ রাখে, তবে শিক্ষার্থীরা সাধারণ গুগল সার্চ থেকেও বঞ্চিত হতে পারে এবং তাদের ডিভাইসে নোটিফিকেশন মেসেজ দেখাবে।

  • কর্পোরেট একচেটিয়াত্বের সমালোচনা: নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জোহরান মামদানি সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) গুগলের এই নীতির সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, গুগল তাদের একচেটিয়া শক্তি ব্যবহার করে শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় এআই চাপিয়ে দেওয়ার বা তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃ  লাল ‘বিমানে’ আটকে গেল গোটা ট্রাম! ‘লাল ব্রিগেড’ সম্মেলন শেষে নজিরবিহীন মুহূর্তের সাক্ষী কলকাতা

উপসংহার

শিক্ষার্থীদের সঠিক বিকাশ এবং এআই-এর সতর্ক ও সুরক্ষিত ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই গুগলের এই নতুন পদক্ষেপ। স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে এআই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সুবিধার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক সততা বজায় রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন